স্বাস্থ্য
খাদ্য উপাদানের অভাবে যে রোগ হয়

ছবি : সংগৃহীত
খাদ্য উপাদানের অভাবে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়ে থাকে যেমন-
▶ ক্ষুধামন্দা : খাবার খাওয়ার রুচি না থাকাকে ক্ষুধামন্দা বলা হয়। এতে ওজন ধীরে ধীরে কমতে থাকে। কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়, দুর্বলতা অনুভূত হয়। খাবারে প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’ থায়ামিন, ভিটামিন ‘সি’, বায়োটিন, সোডিয়াম ও জিংকের অভাব হলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
▶ ক্লান্তি : এ সমস্যায় মানুষের মধ্যে আলস্য, অবসাদ, কাজের প্রতি উদাসীনতা দেখা যায়। খাবারে চাহিদামতো শর্করা, আমিষ, ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ কমপ্লেক্স, ভিটামিন ‘সি’, ‘ডি’, জিংক ও লৌহ না থাকলে মানুষ ক্লান্তি অনুভব করে।
▶ অনিদ্রা : পুরুষের চেয়ে মহিলারা এ রোগে বেশি ভুগে থাকেন। আর যুবকদের চেয়ে বৃদ্ধদের এ সমস্যা বেশি হয়। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লোকদের এ সমস্যা বেশি হয়। আবার শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলেও মানুষ ঘুমাতে পারে না। শোবার আগে এক কাপ দুধ এবং হারবাল চাও উপকারী।
▶ স্মরণশক্তি কমে যাওয়া : খাবারে ভিটামিন ‘বি১’ বা থায়ামিনের অভাবে এ সমস্যা হতে পারে।
▶ বৃদ্ধি ব্যাহত : বয়স অনুপাতে বৃদ্ধি না হওয়াটা খাবারের অভাবের ফলে হতে পারে। যদি খাবারে চর্বি, প্রোটিন, ভিটামিন ‘বি১’, ফলিক অ্যাসিড ও জিংকের অভাব হয়, তাহলে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুকে বয়স অনুযায়ী অবশ্যই সুষম খাবার দিতে হবে।
▶ হঠাৎ কাঁপুনি : খাদ্যে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে হঠাৎ কাঁপুনি সৃষ্টি হয়। এ জন্য খেতে হবে-বাদাম, সমুদ্রের মাছ, শাকসবজি, তালের রস, ডাল, দুধ।
▶ নিশ্বাসে দুর্গন্ধ : খাবারে ক্রমাগত নায়াসিনের অভাবে অনেকের নিশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে দেখা যায়।
▶ হজমের গোলমাল : খাবারে ভিটামিন ‘বি১’, ভিটামিন ‘সি’, ফলিক অ্যাসিড, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, ক্লোরিন এগুলোর ঘাটতিতে হজমের গোলমাল দেখা দিতে পারে। এ জন্য অনেকে খাবার খেতে ভয় পান। ফলে তাদের ধীরে ধীরে ওজন কমে যেতে থাকে এবং দুর্বলতা দেখা দেয়।
▶ খাবারের ঘ্রাণ না পাওয়া ভিটামিন ‘এ’ ও জিংকের অভাবে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের এ সমস্যা খুব বেশি দেখা গেছে। এটা দীর্ঘমেয়াদি হলে মানসিক সমস্যা দেখা যায়। হলুদ ও গাঢ় শাকসবজি, ফল, মাছের যকৃতের তেল, কলিজা, দুধ, গরুর মাংস, কুমড়ার বিচি, ডিম, সরিষা, ওটস ইত্যাদি খেলে উপকার পাওয়া যাবে।
▶ নাক দিয়ে রক্ত পড়া : শিশু-কিশোরদের এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। খাবারে ভিটামিন ‘সি’ ভিটামিন ‘কে’ ও বায়োফ্লাওলয়েডের অভাব হলে এ সমস্যা হতে পারে। খেতে হবে-পেয়ারা, আমলকী, আমড়া, লেবুজাতীয় ফল, টমেটো, জাম, ফুলকপি, ডিমের কুসুম, ট্যাংগারিন ইত্যাদি। অনেক সময় আবহাওয়া খুব গরম হলেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
▶ অ্যাকজিমা : খাদ্যে চর্বি, ভিটামিন ‘এ’ ‘বি’ কমপ্লেক্স ও আয়োডিনের অভাব হলে ত্বক লাল বর্ণ, খসখসে ও চুলকাতে থাকে। চামড়ায় একটা পোড়া ভাব দেখা যায়। বাদাম, নারিকেল, ডিম, দুধ, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, সয়াবিন, শিমের বিচি, কলিজা, মগজ, ডাল, আলু, পনির, গরুর মাংস, সমুদ্রের মাছ, ফল খেলে উপকার হয়।
▶ চুল পড়ার সমস্যা : দীর্ঘদিন খাবারে প্রোটিন, ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, লৌহ, বায়োটিন ও জিংকের অভাবে এ সমস্যা হয়ে থাকে। এ জন্য খেতে হবে-চাহিদামতো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, ডিমের কুসুম, আমলকী, লেবু, কচুশাক, খেজুর, কিশমিশ, চালতা, সফেদা, গুড়, ফুলকপি, পনির, পালংশাক, কুমড়ার বিচি, সরিষা, শালগম ইত্যাদি।
▶ মুখে ঘা : অপুষ্টিজনিত কারণে কোনো কোনো বাচ্চার ঠোঁটের দুকোণে ঘা হতে দেখা যায়। সাধারণত ভিটামিন ‘বি১’ ও ‘বি৬’-এর অভাবে মুখ ও জিহ্বায় ঘা হয়ে থাকে। খেতে হবে-দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, কলিজা, বাদাম, মাছ, ভুট্টা, ডাল, আলু, মিষ্টি আলু ইত্যাদি।
লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা







