রাজনীতি
সরকার একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে চায়: গোলাম পরওয়ার

সংগৃহীত
গোপনে একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে চায় সরকার। সরকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা একটি কুচক্রী মহল সে লক্ষে প্রশাসন ঢেলে সাজাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আটদলের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরওয়ার বলেন, একটি দল আমাদের গাড়িতে হামলা করছে, মহিলাদের উপর হামলা করছে। কিন্তু এ প্রশাসন এগুলো বন্ধ করতে না ব্যর্থ হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
একই সাথে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হবে। সরকারের মধ্যে লুকিয়ে রাখা কুচক্রীদের পরামর্শে জাতীয় নির্বাচনের সাথে গণভোটের ডেট দেওয়া হয়েছে। অতিসত্বর গণভোটের জন্য আলাদা তারিখ দিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হবে।
লুটপাট-কারীদের বিরুদ্ধে আটদল ঐক্যবদ্ধ মন্তব্য করে পরওয়ার আরো বলেন, চাঁদাবাজ, লুটপাটকারী, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আটদল ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে ইসলাম এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জোটে দলের সংখ্যা বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, আটদল আর আটদল থাকছে না। আটদলের সাথে যুক্ত হতে অনেক দল ইচ্ছে পোষণ করছে। আটদলের পাল্লা ভারি হবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ-দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং জামায়াত ক্ষমতায় আসলে চাঁদাবাজিকে লাল কার্ড দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ নেজামী ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজিদ পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হক আজাদ
খেলাফত মজলিস আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাড. আনোয়ারুল হক চাঁদ, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা কেরামত আলী, খেলাফত মজলিস নেতা শেখ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ইসলামী খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা আশরাফ আলী আকন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নেতা মুফতি মহিউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
আটদলের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো–
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করা, জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা, স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দূশ্যমান করা।
উল্লেখ্য, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জামায়াতের নেতৃত্বে আন্দোলনরত আটদলের বিভাগীয় সমাবেশ রোববার দুপুর ২টায় শুরু হয়।
এদিন সমাবেশে যোগদিতে সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মাদ্রাসা ময়দানে আটদলের নেতাকর্মীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন। নগরীর সড়কগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। সমাবেশ আটদলের হাজার-হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।







