বিনোদন
‘এআর রহমান বিশ্বখ্যাত শিল্পী, তার সততাকে আক্রমণ করা কোনোভাবেই ঠিক নয়’

অস্কারজয়ী ভারতীয় সুরকার ও সংগীতশিল্পী এআর রহমানের এক মন্তব্যকে ঘিরে অনলাইন দুনিয়ায় সম্প্রতি বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা- সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে সেসব যেন গায়েই মাখছেন না এ সংগীতজ্ঞ। ইতোমধ্যে তার মন্তব্যের ব্যখ্যাও দিয়েছেন এআর রহমান।
আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই এবার বিশ্বখ্যাত এই সুরকারের পাশে দাঁড়ালেন মালয়ালম সঙ্গীত রচয়িতা কৈলাস মেনন। নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা এক পোস্টে এ সুরকার জানান, এআর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে যেভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে সেটা সমালোচনা নয়, বরং ঘৃণামূলক বক্তব্য।
ইনস্টাগ্রামে ‘অসম্মতি, কিন্তু অসম্মান করো না’ শিরোনামে শেয়ার করা নোটে সুরকার মেনন লেখেন, যারা এআর রহমানকে তার মনের কথা বলার জন্য দোষারোপ করছেন, তারা একটি মৌলিক বিষয় উপেক্ষা করছেন। রহমান কেবল তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন- এটি তার অধিকার। কেউ তার সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু তার অভিজ্ঞতা প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারেন না।
কৈলাস মেনন আরও উল্লেখ করেন, রহমানের বক্তব্যের পর যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা মতবিরোধের সীমা ছাড়িয়ে ‘অপব্যবহার ও চরিত্রহননের’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। একজন বিশ্বখ্যাত শিল্পীকে অসম্মান করা, তার বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তার সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে উপহাস করা কিংবা তার জীবনের অভিজ্ঞতাকে ‘ভিকটিম কার্ড’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া—এসব সমালোচনা নয়, বরং ঘৃণামূলক বক্তব্য।
নোটে মেনন লেখেন, রহমান কোনো ‘এলোমেলো কণ্ঠস্বর’ নন; তিনি তামিল সংস্কৃতি, ভারতীয় সিনেমা এবং বিশ্ব সঙ্গীতে দশকের পর দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। কোনো সিনেমা বা বক্তব্য নিয়ে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু জনসমক্ষে অপমান করা কিংবা একজন শিল্পীর সততাকে আক্রমণ করাটা কোনোভাবেই ঠিক নয়। বাকস্বাধীনতা যেমন সমালোচকদের জন্য প্রযোজ্য, তেমনি রহমানের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে প্রযোজ্য।
এদিকে, এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এআর রহমান নিজেও ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, কারো অনুভূতিতে আঘাত করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।
ভিডিও বার্তায় এআর রহমান বলেন, ‘সঙ্গীত সবসময় আমার কাছে সংস্কৃতিকে যুক্ত করার, উদযাপন করার এবং সম্মান করার মাধ্যম। ভারত আমার অনুপ্রেরণা, আমার শিক্ষক এবং আমার ঘর। আমার উদ্দেশ্য সবসময়ই সঙ্গীতের মাধ্যমে উন্নীত করা, সম্মান করা ও সেবা করা। ’ এছাড়া তিনি কাউকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেই মন্তব্যটি করেননি বলেও উল্লেখ করেন।






