আন্তর্জাতিক
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে কপাল পুড়ল ব্রিটিশ রাজা চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রুর

ছবি : সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর শহরের রয়্যাল লজ বাসভবন ছেড়ে নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে চলে গেছেন। গত সোমবার রাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাসভবন ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের যে বাড়িতে তিনি স্থায়ীভাবে উঠবেন, সেখানে সংস্কারকাজ চলছে। আপাতত তিনি একই এস্টেটের উড ফার্ম কটেজে অবস্থান করছেন। রাজা তৃতীয় চার্লসের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এই এস্টেটে অ্যান্ড্রুর নতুন বাসভবনের ব্যয়ও তিনি বহন করবেন বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রু মার্শ ফার্মে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই অ্যান্ড্রুকে নিয়ে বিতর্ক চলছে। বাকিংহাম প্যালেস আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, তাকে রয়্যাল লজ ছাড়তে হবে। সর্বশেষ এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশের পর এ প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যও অ্যান্ড্রুর ওপর চাপ বাড়ছে। তবে তিনি বরাবরই তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
গত অক্টোবরে বাকিংহাম প্যালেস জানায়, অ্যান্ড্রুর প্রিন্স উপাধি বাতিল করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর নামে পরিচিত হবেন। একই সময় রয়্যাল লজ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। ২০০৪ সাল থেকে তিনি ওই বাসভবনে বসবাস করছিলেন।
এদিকে সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নতুন করে আরও এক নারীর যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টেইন একজন নারীকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন এবং ২০১০ সালে রয়্যাল লজে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক হয়। অভিযোগকারী নারী তখন ২০–এর কোঠায় ছিলেন এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক নন।
ওই নারীর পক্ষে আইনি লড়াই করছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইন সংস্থা এডওয়ার্ডস হেন্ডারসনের আইনজীবী ব্র্যাড এডওয়ার্ডস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ওই নারীকে বাকিংহাম প্যালেস ঘুরিয়ে দেখানো হয় এবং আপ্যায়ন করা হয়।
বিবিসি এ বিষয়ে অ্যান্ড্রুর মন্তব্য জানতে চাইলেও এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামের এক নারী অভিযোগ করেন, এপস্টেইন ও গিলেন ম্যাক্সওয়েল তাকে পাচার করে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন, তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। এ অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেন তিনি। পরে ২০২২ সালে আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের সমঝোতায় মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। জিউফ্রে গত বছর আত্মহত্যা করেন।
এপস্টেইনের বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত নথি, ই–মেইল ও ছবিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্কের তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৮ সালে যৌন নিপীড়ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও তার প্রভাবশালী যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচার চলাকালে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।






