জাতীয়

ভোট ডিউটিতে আনসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

ভোট ডিউটিতে আনসার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আদেশ অমান্য করে দল নেতাদের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে ভোট ডিউটি সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি অর্থের বিনিময়ে অন্যের সার্টিফিকেটে ভুয়া সদস্য বানিয়ে আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীদের পাশাপাশি অনভিজ্ঞদের ভোট ডিউটি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। রংপুরের পীরগাছা,মিঠাপুকুর, বদরগঞ্জ গংগাচড়া এবং তারাগঞ্জ উপজেলায় ভোট ডিউটিতে আনসার নিয়োগে এই অনিরমের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সরে জমিনে গেলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে আনসার ভিডিপি সদস্যরা জানান, ভোট ডিউটির নিয়োগে আনসার ভিডিপির হেডকোয়ার্টার থেকে যে নিয়ম করা হয়েছিল তার অবৈধভাবে সুযোগ গ্রহণ করে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাদের যোগসাযোসে ইউনিয়ন দলনেতারা তাদের ইচ্ছামত পছন্দের লোকজনের কাছ থেকে দেড় থেকে ২হাজার করে টাকা নিয়ে ভোট ডিউটি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। অর্থের বিনিময়ে তারা আওয়ামী লীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীয় সমর্থক থেকে শুরু করে যারা ভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তাদেরকে অন্যজনের সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ভোট ডিউটির ব্যবস্থা করেছেন।



পীরগাছা উপজেলার আনসার ভিডিপির লিলি, আমেনা সাবেরা, রওশনারা, রিয়াদ, আনজুয়ারা, সুমি ও মামুন অসংখ্য সদস্যরা জানান, পীরগাছা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা সুজন রানা দলনেতা নুর ইসলাম, সাহাদুল, রোজিনা বেলাল, আল আমিনসহ অন্যান্য দলনেতাদের মাধ্যমে ভোট ডিউটি করার জন্য থেকে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে অর্থ গ্রহণ করেছেন। এখানে আনসার ভিডিপি হেডকোয়ার্টার থেকে যাদেরকে ভোট ডিউটি করার জন্য এসএমএস করেছিল তাদেরকে ছাড়াও যাদের সার্টিফিকেট ছিল না বিশেষ করে চৌধুরানী এলাকার সেখানে অর্থের বিনিময়ে অন্যজনের সার্টিফিকেট দিয়ে নৌকা নাঙ্গলের ভোট করেছিল সেই দলের লোকগুলোকে ভোট ডিউটি করার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নুর ইসলাম নামে পীরগাছা পীরগাছা ইউনিয়নের দলনেতা প্রকাশ্যে উপজেলা অফিসারের নামে ভোট ডিউটির জন্য আনসার ভিডিপি সদস্য ছাড়াও অন্য জনের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি আমরা উপজেলা অফিসারকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এছাড়াও উপজেলা কর্মকর্তা হেডকোয়ার্টার থেকে এসএমএস পাওয়া সদস্যদের উপজেলা মাঠে ডাকিয়ে যাচাই-বাছাই করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যাচাই-বাছাই না করে দলনেতাদের কথায় ভোট ডিউটি করার জন্য লোকজন নিয়েছেন। যদি ডিজির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হতো সে ক্ষেত্রে প্রকৃত আনসার ভিডিপি সদস্যরা এবার ভোট ডিউটিতে সুযোগ পেতে বলে তারা জানান।

আমিনুল ইসলাম ও রাকিবুল নামে দুই আনসার সদস্য বলেন, প্রকাশ্যে দলনেতারা ভোট ডিউটির জন্য অর্থ নেওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করলে পীরগাছা উপজেলা জননেতা নুর ইসলাম আমাদেরকে ভয়-ভীতি দেখান। বিষয়গুলো উপজেলা অফিসার কে জানালে তিনি আমাদের সার্টিফিকেট আটক করে রাখেন। আজ অবধি আমাদের সার্টিফিকেট গুলো দেননি। তারা বলেন যারা টাকা দিয়েছে তাদের ক্ষেত্রে কোনো এসএমএসের বালাই নেই বেশি টাকা দিলেই অন্যজনের নাম কেটে দিয়ে তাদের নামে ডিউটি দেওয়া হয়েছে।

পীরগাছা ইউনিয়নের দলনেতা নুর ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি অনেক পুরাতন দলনেতা আমার কথা অবশ্যই উপজেলা অফিসার শোনে। আমাদের অনেক খরচ হয়। অফিসারদের বিষয়গুলো আমাদেরকে দেখতে হয়। সে ক্ষেত্রে অনেকে আমাদেরকে চা নাস্তা খাওয়ান। কিন্তু সদস্যরা যত বেশি টাকার কথা বলেছেন এমন কিছু আমরা করি না।

এ বিষয়ে আনসার ভিডিপির পীরগাছা উপজেলা কর্মকর্তা সুজন রানা আমার দেশকে বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি তাই অনেকর সাথে আমার চেনা জানা নেই। তাছাড়াও হেডকোয়ার্টার থেকে যাদেরকে এসএমএস করেছিল তাদের মধ্য থেকেই নেওয়া হয়েছে এখানে যদি ইউনিয়ন দলনে তারা কারো কাছ থেকে কোন অর্থ গ্রহণ করে থাকেন সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যাচাই-বাছাই এর জন্য সদস্যদের ডাকেননি এবং যারা আওয়ামী লীগ যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নৌকা লাঙ্গলের ভোট করেছেন কেমন লোকজনকে ভোট ডিউটিতে নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন সদর উত্তর দিতে পারেননি।

ইউনিয়ন দলনেতাদের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে ভোট ডিউটিতে সুযোগ করে দেওয়ার বিষয় এ বদরগঞ্জ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার গোলাম আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা দল নেতাদের মাধ্যমে সদস্যদের ডেকে যাচাই-বাছাই করেছি। তারপরেও কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে সেটা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তারপরে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আমাকে দিলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।

আনসার ভিডিপি টিআই নাসিমুল ফেরদৌস বলেন, হেডকোয়াটারের এসএমএস অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি সেক্ষেত্রে সবাইকে নাও তো সম্ভব নয় এখান থেকে বাছাই করে যারা ডিউটি করতে সক্ষম তাদেরকেই নেওয়ার নিয়ম। যদি কোনো উপজেলা অফিসার সঠিক মত বাছাই না করে জননেতাদের কথায় লোক নিয়ে থাকেন তাহলে সেটা তারা ভুল করেছে।

রংপুর জেলা কমান্ড্যান্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, যাতে কোনো অনিয়োগ না হয় এ বিষয়ে অফিসারদের ডিজি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তার পরেও কয়েকটি উপজেলা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট ডিউটিতে আনসার ভিডিপি সদস্য নিয়োগে অনিমের অভিযোগ কানে এসেছে। বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহা পরিদর্শক রংপুর বিভাগীয় রেঞ্জ পরিচালক আব্দুল আউয়াল আমার দেশকে বলেন, আনসার ভিডিপির সার্টিফিকেটধারী সদস্যদের হেডকোয়াটার থেকে ডিউটি করবে কি করবে না এই মর্মে একটি করে এসএমএস দেওয়া হয়েছিল। যারা ডিউটি করতে ইচ্ছুক তারা ওকে করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে যাচাই-বাছাই করে যারা ভোট ডিউটি করতে সক্ষম তাদেরকে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু এখানে কৌশল করে ইউনিয়ন দলনেতারা কিছু অনিয়ম করে থাকতে পারেন যা হয়তো উপজেলা অফিসাররা ধরতে পারেননি। তবে আমরা বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি সামান্যতম কোনো ত্রুটি পেলে কর্মকর্তা সহ ওই ইউনিয়ন ধরনের তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সম্পর্কিত খবর