আন্তর্জাতিক
নিরস্ত্রীকরণ ও বিদেশি শাসন মানবে না হামাস

ছবি : সংগৃহীত
নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব মানবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনের এক জ্যেষ্ঠ নেতা গাজায় তাদের অস্ত্র সমর্পণ বা বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়ার আহ্বানও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবিগুলোর বিরুদ্ধে তিনি এ অবস্থান ব্যক্ত করেন।
হামাসের সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে সংগঠনটির প্রবাস শাখার প্রধান খালেদ মিশাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দোহায় আয়োজিত সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা অবস্থায় সশস্ত্র প্রতিরোধকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা এবং ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টা ‘অগ্রহণযোগ্য’।
খালেদ মিশাল বলেন, ‘প্রতিরোধ আন্দোলন, এর অস্ত্র এবং যারা এটি পরিচালনা করেছে তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা এমন কিছু, যা আমাদের গ্রহণ করা উচিত নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘যতদিন দখলদারিত্ব থাকবে, ততদিন প্রতিরোধ জারি থাকবে। দখলদারদের অধীনে থাকা জনগণের জন্য প্রতিরোধ একটি অধিকার, এ জন্য বিভিন্ন জাতি গর্ববোধ করে।’
খালেদ মিশাল আরো সতর্ক করে বলেন, ‘হামাস গাজায় যেকোনো ধরনের বিদেশি শাসন দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা আমাদের জাতীয় নীতিতে অটল এবং যেকোনো রূপে অভিভাবকত্ব, বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ম্যান্ডেট ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার যুক্তি প্রত্যাখ্যান করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরাই ফিলিস্তিনিদের শাসন করবে। গাজা গাজার জনগণের এবং ফিলিস্তিনের। আমরা কোনো বিদেশি শাসন মেনে নেব না’।
খালেদ মিশাল তথাকথিত 'বোর্ড অব পিসকে’ একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি’ অবলম্বনের আহ্বান জানান, যা গাজার পুনর্গঠন এবং এর প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দার জন্য ত্রাণের প্রবাহকে সহজতর করবে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরাইলকে গাজার সমস্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে খাদ্য ও সহায়তা প্রবেশ করতে পারে এবং হামাসের হাতে থাকা সব বন্দীকে মুক্তির বিনিময়ে শত্রুতা শেষ হয়।
হামাস চুক্তিটি মেনে চললেও ইসরাইল গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং অধিকাংশ ক্রসিং বন্ধ রেখেছে, যার কারণে অত্যাবশ্যকীয় ত্রাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি সমর্থনে একটি নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের উদ্যোগ নেন। গাজাযুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বোর্ড সাময়িকভাবে অঞ্চলটি পরিচালনার তদারকি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখানে প্রায় ৬০টি দেশকে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে প্রতিটি দেশকে এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে যোগদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছে এবং গাজার অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ পুনর্গঠন ব্যয় প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে অনুমান করেছে।







