রাজনীতি
ঢাকার ৪টি আসনে ফলাফল শিটে ‘কাটাকাটি’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা

ছবি : সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে ঢাকার চারটি পৃথক আসনের ৪ কেন্দ্রে রেজাল্ট শিটে ‘কাটাকাটি’র ঘটনা নিয়ে। ওই চারটি আসনের একটি হচ্ছে বহুল আলোচিত ঢাকা-১৭ আসন। যেখানে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের ফল পুনর্লিখনের পর তার প্রাপ্ত ভোট ৩০০ কমে গেছে।
অপর দিকে ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৮ আসনের তিনটি কেন্দ্রের রেজাল্ট শিটে কাটাকাটির পর বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন, ববি হাজ্জাজ ও এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রাপ্ত ভোট যথাক্রমে ৫০০, ৩০০ ও ২০০ করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওই চার কেন্দ্রের তিনটিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট কাটাকাটি করা হয়েছে। কাটাকাটির পর বিএনপির প্রার্থীদের ভোট বাড়লেও জামায়াতের প্রার্থীর ভোট কমেছে।
ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ-২ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের সই করা গণনার বিবরণীতে দেখা গেছে, ওই কেন্দ্রে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। এই রেজাল্ট শিটে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এসএম খালিদুজ্জামানের প্রাপ্ত ভোট ৬৩৯। তবে কাটাকাটির আগে এটিও ছিল ৬৯৯ ছিল। ওই কেন্দ্রে মোট ১৪১৯টি ভোট কাস্ট হলেও ১৪০১টি বৈধ ও ১৮টি অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, লাঙ্গল প্রতীকের আতিক আহমেদ ১৭, বাইসাইকেলের ৪ ও হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ উল্লাহ ৪২ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-৬ আসনের নারিন্দা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণনার বিবরণীতে দেখা গেছে, ওই কেন্দ্রেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা পুনর্লিখন করা হয়েছে।
পুনর্লিখনের পর এই প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫০৬। তবে পুনর্লিখনের আগে এর সংখ্যা ছিল ১০০৬। দুই সংখ্যার ব্যবধান ৫০০। এই কেন্দ্রে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. আব্দুল মান্নান ১০৩৮ ভোট।
কেন্দ্রটিতে মোট ২৫৭৯ বৈধ ভোটের ২৫টি পেয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু; এ ছাড়া মাছ প্রতীকের আহম্মেদ আলী শেখ ২, হারিকেন প্রতীকের আকতার হোসেন ৩, ডাব প্রতীকের ইউনুস আলী আকন্দ ৩ ও ট্রাক প্রতীকের ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ২ ভোট।
ঢাকা-১৩ আসনের জাফরাবাদ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. নাদিম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত গণনা বিবরণীতে ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজের প্রাপ্ত ভোটে পুনর্লিখন করা হয়েছে।
পুনর্লিখনের পর তার ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৬, যদিও পুনর্লিখনের আগে তিনি পেয়েছিলেন ৬২৬ ভোট। এই কেন্দ্রে ববি হাজ্জাজের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের রিক্সা প্রতীকের মামুনুল হক পেয়েছেন ৬০৭ ভোট।
কেন্দ্রটিতে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১৪৭৫, বাতিল হয়েছে ৬৫টি ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আপেল প্রতীকের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া ১, ট্রাক প্রতীকের মিজানুর রহমান ৬, মই প্রতীকের মো. খালেকুজ্জামান ৪, রকেট প্রতীকের মো. শাহাবুদ্দিন ৯, হারিকেন প্রতীকের শাহরিয়ার ইফতেখার ১০, ঘুড়ি প্রতীকের শেখ মো. রবিউল ইসলাম ৭ ও কলস প্রতীকের সোহেল রানা পেয়েছেন ৫ ভোট।
অপরদিকে ঢাকা-১৮ আসনের গাওয়াইর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রুবেল আহাম্মেদ খান স্বাক্ষরিত গণনার বিবরণীতে দেখা গেছে, এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রাপ্ত ভোটে পুনর্লিখন করা হয়েছে।
পুনর্লিখনের পর তিনি ভোট পেয়েছেন ৫৪২টি, যদিও এর আগে তিনি পেয়েছিলেন ২৪২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকের আরিফুল ইসলাম আদিব পেয়েছেন ৩৩৭ ভোট।
ওই কেন্দ্রে মোট ৯৩৬টি ভোট পড়লেও ১৬টিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে কেটলি মার্কার মাহমুদুর রহমান মান্না ১, আম প্রতীকের সাবিনা জাবেদ ১, হাতপাখা প্রতীকের মো. আনোয়ার হোসেন ১২, হরিণ প্রতীকের ইসমাইল হোসেন ২, মোমবাতি প্রতীকের মো. জসিম উদ্দিন ৬, লাঙ্গল প্রতীকের জাকির হোসেন ৮, রেল ইঞ্জিন প্রতীকের মহিউদ্দিন হাওলাদার ৯ ও মই প্রতীকের সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ পেয়েছেন ২ ভোট।
এসব রেজাল্ট শিটের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘ঢাকা-১৭ আসনে কাটাছেঁড়া করে বাড়ানো হচ্ছে ভোট! তারেক রহমানকে জেতাতে চলছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং!’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ উদ্দিন সিফাত লিখেছেন, ‘ভোট গণনায় ভুল কেবল বিএনপির প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। তাও তিন ডিজিটের তৃতীয় ও দ্বিতীয় ডিজিটে না; ঠিক প্রথম ডিজিটে। ধরেন, ৩৩৪ হয়ে যাচ্ছে ৭৩৪! কিংবা, ৬২৬ হয়ে যাচ্ছে ৮২৬!’






