আন্তর্জাতিক

নাভালনি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্কাই নিউজ

শেয়ারঃ

নাভালনি হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরীয় 'ডার্ট ফ্রগ' বা বিষাক্ত ব্যাঙের শরীর থেকে তৈরি এক ভয়াবহ বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো।


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের ফাঁকে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

তারা জানান, 'এপিবাটিডাইন' নামক এই নিউরোটক্সিনটি মরফিনের চেয়েও ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী, যা শরীরে প্রবেশের পর পক্ষাঘাত ও শ্বাসকষ্ট তৈরি করে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু নিশ্চিত করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই ঘটনাকে একটি 'বর্বর কাজ' হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন।

তদন্তকারীদের মতে, নাভালনিকে প্রাকৃতিক ব্যাঙের বিষ নয়, বরং গবেষণাগারে তৈরি কৃত্রিম বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবেরিয়ার চরমপন্থী পেনাল কলোনিতে থাকাকালীন নাভালনির আকস্মিক মৃত্যুর প্রায় দুই বছর পর এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সামনে এলো। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গবেষণা কেন্দ্র 'পোর্টন ডাউন'-এর বিজ্ঞানীরা নাভালনির শরীর থেকে সংগৃহীত জৈবিক নমুনা পরীক্ষা করে এই বিষের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন।


ইউলিয়া নাভালনায়া জানিয়েছেন, তার স্বামীর শরীর থেকে এই নমুনাগুলো গোপনে রাশিয়া থেকে বের করে আনা হয়েছিল। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই বিষের ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেছেন, এর প্রভাবে শিকার হওয়া ব্যক্তি চরম যন্ত্রণায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান।

অন্যদিকে, রাশিয়া বরাবরের মতোই এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা একে পশ্চিমা দেশগুলোর একটি 'তথ্যযুদ্ধ' এবং অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এই তদন্তকে একটি 'হাস্যকর সার্কাস' বলে উপহাস করে জানিয়েছে, এটি কেবল রাশিয়া-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২০ সালেও নাভালনিকে নভিচক নামক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, যার পেছনেও ক্রেমলিনের হাত রয়েছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দারা দাবি করে আসছিলেন।

বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্ররা এই নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা সংস্থা বা ওপিসিডব্লিউ-তে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যাতে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।



সম্পর্কিত খবর