আন্তর্জাতিক
ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি কেড়ে নেওয়ার নতুন ছক ইসরাইলের

ছবি : সংগৃহীত
১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধনের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল।
দেশটির কট্টরপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইনি প্রক্রিয়া মূলত ফিলিস্তিনিদের তাদের পৈতৃক ভূমি থেকে উচ্ছেদ এবং পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। ১৯৮৪ সাল থেকে স্থগিত থাকা এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মালিকানা প্রমাণের সুযোগ সীমিত করে তাদের জমি দখল করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
ইসরাইলি আবাসন অধিকার সংস্থা 'বিমকোম'-এর মতে, পশ্চিম তীরের প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমির কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন নেই। ব্রিটিশ শাসনামল বা জর্ডান শাসনের সময় মাত্র ৩০ শতাংশ ভূমির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছিল।
বর্তমান ইসরাইলি সরকার এখন ফিলিস্তিনিদের কাছে এমন সব নথিপত্র দাবি করছে যা সংগ্রহ করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। অনেক ফিলিস্তিনি পরিবার যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়ায় বা যুগের পর যুগ ধরে বংশপরম্পরায় ভূমি ব্যবহার করায় তাদের কাছে কোনো দাপ্তরিক কাগজ নেই। ফলে প্রমাণের অভাবে এই বিশাল পরিমাণ ভূখণ্ড ডিফল্টভাবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন হয়ে যাবে।
এর আগে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই ধরনের ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, নিবন্ধিত জমির মাত্র ১ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের নামে হয়েছে, আর বাকি ৯৯ শতাংশই ইসরাইলি রাষ্ট্র বা ব্যক্তিগত মালিকদের দখলে চলে গেছে। ইসরাইলি বসতিবিরোধী সংগঠন 'পিস নাউ' এই প্রক্রিয়াকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের 'পূর্ণ দখলদারিত্ব' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ সালে এক রুলে জানিয়েছিল, ইসরাইলের এই ধরনের ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং জনসংখ্যা স্থানান্তর সম্পূর্ণ অবৈধ। তা সত্ত্বেও বেইজিং বা ওয়াশিংটনের চাপের তোয়াক্কা না করে ইসরাইল তাদের বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্য পূরণে আইনি পথেই এগোচ্ছে।
ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর করা একটি আবেদন গত মাসে খারিজ করে দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এ নিয়ে কোনো রুল জারি করা অকালপক্ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অত্যন্ত ছোট একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতকে আরও উসকে দেবে।







