আন্তর্জাতিক
জাপানে রুগ্ন পানিব্যবস্থা মেরামতে ২১ কেজি স্বর্ণ দিলেন রহস্যময় দাতা

ছবি : সংগৃহীত
জাপানের ওসাকা শহর দেশটির অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এই নগরীতে অন্তত ৩০ লাখ মানুষের বসবাস। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হওয়া সত্ত্বেও এখানকারা পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা
একেবারেই রুগ্ন। ২০২৪ অর্থ বছরেই অন্তত ৯০টি লিকেজের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ দুরাবস্থা চলতে থাকায় বিষয়টি নগরবাসীর ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নগর কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থা মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় এক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তিনি ২১ কেজি স্বর্ণের বার দান করে নিজের নামও প্রকাশ করেননি। দেশটির বাজারে তার দেওয়া স্বর্ণের বর্তমান মূল্য ৩৬ লাখ ডলার তথা ৪৪ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা (১ ডলার সমান ১২২.৪৩ টাকা ধরে)।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ওসাকা শহরের কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা পানি সরবরাহের পুরোনো ব্যবস্থা মেরামতের জন্য বড় ধরনের অনুদান পেয়েছে। এর পরিমাণ ২১ কেজি স্বর্ণের বার। ওসাকা শহরের মেয়র হিদেয়ুকি ইয়োকোয়ামা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
ইয়োকোয়ামা জানান, গত বছরের নভেম্বরে এক ব্যক্তি আনুমানিক ৫৬০ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই স্বর্ণের বারগুলো দান করেন। তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।
দেশটির অনেক শহরের মতো ওসাকায় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পাইপগুলো বেশ পুরোনো। যেটিকে স্থানীয়রা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখেন।
শহরের পানি সরবরাহ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে ওসাকার রাস্তার নিচে ৯০টিরও বেশি পাইপ লিকেজের ঘটনা ঘটে। স্বর্ণ অনুদান সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র ইয়োকোয়ামা বলেন, ‘পুরোনো পানির পাইপ মেরামতের জন্য বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই।’
অনুদানের পরিমাণকে বিস্ময়কর উল্লেখ করে ইয়োকোয়ামা বলেন, তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেছেন। এই রহস্যময় দাতা এর আগে পৌরসভার পানি সরবরাহ কাজের জন্য নগদ ৫ লাখ ইয়েন দান করেছিলেন।
ওসাকা শহরের পানি সরবরাহ ব্যুরো বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই অনুদানের জন্য কৃতজ্ঞ। এটি জরাজীর্ণ পাইপ মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হবে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের ২০ শতাংশেরও বেশি পানির পাইপের মেয়াদ ৪০ বছর পার হয়ে গেছে। তাই প্রায়ই শহরগুলোতে ‘সিঙ্কহোল’ বা মাটির নিচে গর্ত তৈরির ঘটনা ঘটে।






