আন্তর্জাতিক

ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সামরিক প্রস্তুতি, ২ রণতরীসহ যা যা মোতায়েন

আল জাজিরা

শেয়ারঃ

ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সামরিক প্রস্তুতি, ২ রণতরীসহ যা যা মোতায়েন

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে নতুন চুক্তিতে আসার জন্য তেহরানকে মাত্র ‘১০ থেকে ১৫ দিন’ সময় বেঁধে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আলটিমেটামের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে ওয়াশিংটন।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ চায় না, তবে আক্রান্ত হলে তার ‘আনুপাতিক ও চূড়ান্ত’ জবাব দেওয়া হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সব দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

আকাশপথে নজিরবিহীন শক্তি বৃদ্ধি

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ও ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ১২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-২২ এয়ার সুপিরিওরিটি জেট এবং এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এই বিশাল বহরকে সহায়তা দিতে যুক্ত হয়েছে কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও কার্গো বিমান।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ই-৩ সেন্টি বা আকাশপথের আগাম সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপস্থিতি। সামরিক বিশ্লেষক মার্ক কানসিয়ান আল জাজিরাকে বলেন, বি-২ স্টিলথ বোম্বার বা ই-৩ সেন্টি বিমানের গতিবিধি লক্ষ করুন। এটি গত বছরের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মতো বড় হামলার ইঙ্গিত দেয়।


সাগরে দুই দানবীয় রণতরী

বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছেছে। এটি ওমান উপকূলে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যোগ দেবে। এছাড়া গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে যেকোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে প্রস্তুত।

ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব ও ডিয়েগো গার্সিয়া

ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে স্টারমার এই ঘাঁটি থেকে ইরানে হামলা চালাতে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ডিয়েগো গার্সিয়া হাতছাড়া করবেন না!’


তিনি মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তরের ব্রিটিশ সিদ্ধান্তে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরানের প্রস্তুতি ও রাশিয়ার সংহতি

মার্কিন চাপের মুখে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ওমান সাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে তেহরান। মহড়া চলাকালীন হরমুজ প্রণালির একাংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দক্ষিণ ইরানে রকেট উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সতর্ক করেছেন যে, ইরানে মার্কিন হামলা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাগুলোতে মাটির নিচে সুড়ঙ্গ এবং কংক্রিটের সুরক্ষা দেয়াল তৈরি করছে। স্টিমসন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ বারবারা স্লাভি বলেন, ‘মনে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।’


সম্পর্কিত খবর