রাজনীতি
‘বেডরুমে ঢুকে গুলি করে হত্যার হুমকি’ দেওয়া ২ নেতার জামিন

ছবি : সংগৃহীত
রংপুরে ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখল নিয়ে বেডরুমে গিয়ে স্ত্রীসন্তানসহ গুলি করে হত্যার হুমকির ঘটনায় জামিন পেয়েছেন বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালীব ও জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন।
মঙ্গলবার দুপুরে জামিন দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাশেদ হোসাইন। পাঁচশ টাকার বন্ডে চার্জশিট না আসা পর্যন্ত এ জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে সোমবার রাতে ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ নামক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মোবাইল ফোনে কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানকে বেডরুমে গিয়ে গুলি করে হত্যার হুমকির অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। মামলার পরে র্যাব-১৩ রংপুর ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালীব ও জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনকে গ্রেফতার করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের লাইন কেটে দেয়। এতে গ্রাহকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। এ ঘটনায় মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গত রোববার বিকালে গালিব ও মনুসহ প্রায় ১৫-২০ জন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ডুকে স্টাফদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধোর ও ভাঙচুর করে। এ সময় তামজিদুর রশিদ গালিবের নির্দেশে অন্য আসামিরা মারধর ও অফিসের ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়া হয়।
এ সময় আকিবুল রহমান মনু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাহাদী হাসান কাফিকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’
পরে ইন্টারনেট অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর মহানগর কোতোয়ালি থানায় ‘ক্যাবল ওয়ান’ ও ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।
এ ঘটনার পর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রহমান গালীব ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুকে নাম কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করে। মামলায় জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত ওই দুই নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
অভিযুক্ত দুই নেতাকে গত রোববার রাতেই বহিষ্কার করেছে যুবদল। সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।






