আন্তর্জাতিক
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল রাশিয়া

ছবি : সংগৃহীত
মস্কো এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মাঝেই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সোমবার (৩০ মার্চ) এক ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে রাশিয়া। তবে যুক্তরাজ্য এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৬ সালে ব্রিটিশ কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এটি দ্বিতীয় দফার ব্যবস্থা।
রাশিয়ার শীর্ষ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস’ (এফএসবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক এমন কিছু ‘গোয়েন্দা ও নাশকতামূলক তৎপরতায়’ লিপ্ত ছিলেন যা রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ।
এফএসবির দাবি অনুযায়ী, ওই কূটনীতিক রাশিয়ার অর্থনীতি সংক্রান্ত ‘সংবেদনশীল তথ্য’ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রুশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কিছু ‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে’ অংশ নিয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। ওই কূটনীতিককে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কড়া প্রতিক্রিয়া
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর (ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস) এক বিবৃতিতে রাশিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘রাশিয়ার পক্ষ থেকে আমাদের কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে আজ যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অর্থহীন। রাশিয়া ব্রিটিশ কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ দূতাবাস কর্মীদের ওপর কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন যুক্তরাজ্য বরদাস্ত করবে না।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কো এবং ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক ‘কোল্ড ওয়ার’-এর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই দ্বিপাক্ষিক বিরোধের জেরে এর আগেও দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও রাশিয়া একজন ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে, যা যুক্তরাজ্য ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ যুক্তরাজ্য একজন রুশ কূটনীতিকের অ্যাক্রেডিটেশন (স্বীকৃতি) বাতিল করে। একই ধরণের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত বছরের মার্চেও মস্কো দুইজন ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল।
সূত্র: এবিসি নিউজ







