রাজনীতি

০৭ জুন মানবন্ধন ও নাগরিক সমাবেশ

জনগণের আমানত, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান -শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

জনগণের আমানত, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান -শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায়। চার দশকেরও অধিক সময় আগে যখন সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেকের কাছে কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা ছিল, তখন কিছু দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব ইসলামী অর্থনীতির নীতিমালার আলোকে একটি বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ আজ বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং শিল্প, যার অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও পথিকৃৎ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

আজ দেশের কোটি মানুষের আস্থা, লক্ষাধিক আমানতকারী, হাজারো উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি অর্থায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স আহরণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এই খাতের অবদান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক কাঠামোর নাম নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাস্তব উৎপাদন, ব্যবসা, অংশীদারিত্ব এবং সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকিং আজ শুধু মুসলিম বিশ্বেই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা গভীর গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে জনগণের আমানত একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনব্যাপী সঞ্চয়, সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের ভবিষ্যৎ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং বার্ধক্যের নিরাপত্তা। সুতরাং দেশের ব্যাংকিং খাত, বিশেষত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব।

আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং জনগণের আস্থা রক্ষার প্রশ্নে সকলের উচিত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

দেশের আলেম-উলামা, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাই—আসুন, আমরা সবাই মিলে জনগণের আমানত, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে সচেতনতা সৃষ্টি করি। মত ও পথের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু জাতীয় স্বার্থ, জনগণের সম্পদ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল।

এই লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের উদ্যোগে আগামী ৭ জুন, রবিবার, সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সমন্বিত নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের আলেম-উলামা, আমানতকারী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকদের উপস্থিত থেকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পক্ষে সংহতি প্রকাশের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সচেতন নাগরিক সমাজ, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশই একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশের আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করতে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করি।

পরিশেষে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি দান করেন; জনগণের সম্পদ ও আমানতকে নিরাপদ রাখেন; দেশের অর্থনীতিতে বরকত দান করেন এবং আমাদের সবাইকে সত্য, ন্যায়, সততা ও জনকল্যাণের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন। আমিন

শীর্ষ উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে বিবৃতি স্বাক্ষর করেন যথাক্রমে, ইসলামী ব্যাংক শরীয়া কাউন্সিলের সাবেক মেম্বার সেক্রেটারী ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন শায়েখ মাওলানা কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর ও সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শামছুল আলম (সদ্য বিদায়ী ভাইস চ্যাঞ্চেলর, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়), সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামী ব্যাংক শরিয়াহ কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ, শরিয়াহ কাউন্সিলের সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ড. সামিউল হক ফারুকী, বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহ কাউন্সিলের সদস্য প্রফেসর আ.ন.ম. রশিদ আহমাদ মাদানী, ড. মাওলানা নুরুল্লাহ মাদানী, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, খেলাফাতে রব্বানী আমির মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, পীর মাওলানা শরীফ হোসাইন, মুসলিম জনতা পরিষদের আমির মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মুফতি মাওলানা নাসির উদ্দীন কাসেমী, শাহ এমদাদুল্লাহ পীর সাহেব, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির শাইখ নুরুল ইসলাম ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী আল্লামা মুস্তাক আহমাদ, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভপতি মাওলানা ইদ্রিস হোসাইন, সেক্রেটারী আবদুস সাত্তার, খাদেমুল ইসলাম জামাত আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ, জমিয়াতে উলামা দেওবন্দ পরিষদের সভাপতি হযরত মাওলানা মুহাদ্দেস আবদুল্লাহ কাসেমী ও সেক্রেটারী হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক কাসেমী, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওলানা আঃ মোমেন নাছেরী, টেকের হাটের পীর সাহেব মাওলানা কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, ড. মীম আতিকুল্লাহ, ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার, ড. রফিকুল ইসলাম মাদানী (খতিব ৬নং সেক্টর জামে মসজিদ), গাউছিয়া দরবার শরিফের পীর ড. আব্দুল কাইউম আল আযহারী, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিুল্লাহ মুহাম্মাদ ইকবাল, বিশিষ্ঠ মুফাসসির মাওলানা ফখরুদ্দীন আহমাদ, মাওলানা নাসির উদ্দিন হেলালী, মাওলানা মো: নূরুল আমীন, ড. কামরুল হাসান শাহীন, ড. সাইফুল ইসলাম রফিক (প্রিন্সিপাল মুহাম্মাদাবাদ ফাযিল মাদরাসা), মাওলানা আনোয়ার হোসাইন মোল্লাহ (প্রিন্সিপাল উত্তর বাড্ডা কামিল মাদরাসা), জাতীয় খতীব পরিষদের আমীর মুফতি মাওলানা মাউদুর রহমান, হুফ্ফাজ পরিষদ সভাপিত হাফেজ লেয়াকত হোসাইন ও সেক্রেটারী মুফতি মাহবুবুর রহমান, ইসলামী অন লাইন এ্যাক্টিভিটস সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুস সামাদ ও মহাসচিব মুফতি আবু আনাস, ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ মাদানী, ড. মুহাম্মাদ শহীদুল ইসলাম বারাকাতী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আজহারী, মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী, মাওলানা আতিকুল্লাহ শহীদ, ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমীন, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মাওলানা মোল্লাহ নাজমুল হাসান, কওমী হাফেজ পরিষদ সভাপতি মুফতি নূরুল আমিন গোপালগন্জী হুজুর, সম্মিলিত ইসলামিক জোটের আমির মাওলানা আবদুল বাকি, সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা মনিরুজ্জামান, জাতীয় ইমাম সোসাইটির মহাসচিব মুফতি জোবায়ের আহমদ কাসেমী, ইসলামী সমাজ সভাপতি মাওলানা রফিকুর রহমান আল কাশেমী ও সেক্রেটারী জেনারেল মুফতি জাকারিয়া, ইসলামী জনতা সভাপতি মুফতি আবদুল কুদ্দুস, মহাসচিব হাফেজ আবুল কাসেম, ইমাম কল্যাণ সমিতি সভাপতি পীর সাহেব মাওলানা কুতুবুল ইসলাম মাজহারী, সেক্রেটারী জেনারেল মুফতি আবু সালেহ, আহকামে শরিয়াহর আহবায়ক মুফতি মাহবুবুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুস সবুর মাতুব্বর, অধ্যক্ষ মাওলানা লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, মুহাদ্দিস আবু বকর সিদ্দিক, ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদ সেক্রেটারী মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাদ্রাসা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি- মাওলানা মহিউদ্দীন মাসুম, সেক্রেটারী মাওলানা এখলাছ উদ্দীন, তালিমুল কুরআন সোসাইটির আহবায়ক মুফতি আবদুল হালিম, মহাসচিব মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, হাফেজ মুফতি মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ইখলাস উদ্দিন, ইসলাহুল উম্মাহ সভাপতি মাওলানা আবু হানিফ নেছারী, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হাফেজ ফারুক হোসাইন, প্রফেসর মাওলানা মুফতি ইসহাক মাদানী, মাওলানা এহতেশামুল হক, নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস আল কাসেমী, মহাসচিব শাইখ আব্দুল কাউয়ূম, জাতীয় ইমাম উলামা পরিষদের সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা ফজলুর রহমান ও মহাসচিব মাওলানা এবি.এম শফিকুল্লাহ, মাদরাসা মসজিদ ও খানকা ঐক্যপরিষদ সভাপতি মাওলানা রফিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, আল কুরআন ফাউন্ডেশন সভাপতি মুফতি জামাল উদ্দীন ও সেক্রেটারী মুফতি ইসহাক, ড. আব্দুল জাব্বার খান, মুফতি মাসুদুর রহমান, মাওলানা মুফতি ওয়াহিদুল আলম, খতিব ৩নং সেক্টর জামে মসজিদ, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন আযহারী, মাওলানা ইরশাদুল্লাহ আযহারী, মাওলানা আবু নাঈম, মাওলানা রুহুল কিসত, প্রিন্সিপাল শাহজাদপুর নজর মাহমুদ আলিম মাদরাসা, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (খতিব, আজাদ মসজিদ, গুলশান), মাওলানা সাদিক মুহাম্মাদ ইয়াকুব আল আযহারী।


সম্পর্কিত খবর