শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেলেন ১৫ শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক

শেয়ারঃ

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এইচএসসি পরীক্ষার সুযোগ পেলেন ১৫ শিক্ষার্থী

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নাটোর ও বগুড়ার ফরম পূরণ-সংক্রান্ত জটিলতায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ১৫ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পথ খুলে গেছে। তাদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় আগামীকাল (৪ জুলাই) থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।


এ ঘটনায় নাটোরে অভিযুক্ত এক অফিস সহকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আটজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দিলেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নজরে আসে।

এরপর মন্ত্রী রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা যথাযথভাবে বোর্ডে জমা দেননি। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র না পেয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন।

ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সঙ্গেও কথা বলেন।

মন্ত্রীর নির্দেশে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দ্রুত শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন করে। ফলে আগামীকাল থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।


এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক এবং লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

একই সঙ্গে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একজন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভুলের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া মহাস্থানগড় এলাকার আরও ছয়জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ-সংক্রান্ত জটিলতায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হন।

বিষয়টি জানার পর শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে ওই সাত শিক্ষার্থীরও ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তারাও আগামীকাল থেকে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।



সম্পর্কিত খবর