সারাদেশ
পুলিশ ফাঁড়ি ভাড়া দেওয়ার জেরে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত
মুন্সিগঞ্জের আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ান (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানকে প্রথমে ভাবেরচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ঢামেকের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আহত কাইয়ুম দেওয়ানের ছোট ভাই মো. মাইন উদ্দিন দেওয়ান জানান, তার ভাই এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সফলতার সঙ্গে গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
তিনি বলেন, সম্প্রতি গুয়াগাছিয়া এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির জন্য বাড়িভাড়া নেওয়ার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। কিন্তু কেউ ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ও তার ভাই পুলিশ ফাঁড়ির জন্য সরকারকে বাড়িভাড়া দিতে সম্মত হন।
মাইন উদ্দিন দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পর ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের হুমকি দিতে থাকে। তারা হুমকি দিয়ে বলেন- কেন কাইয়ুম দেওয়ান পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ভাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে আগেও পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত এক ঘটনায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সঠিক তদন্তের নির্দেশ দিয়ে যৌথ বাহিনীর কাছে অভিযোগ দেন। এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও ধীরে ধীরে আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে ও গোপনে কাইয়ুম দেওয়ানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
মাইন দেওয়ান বলেন, শুক্রবার বিকালে কাইয়ুম দেওয়ান একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যান। আসরের নামাজ আদায় করে গুয়াগাছিয়া কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে তাকে ঘিরে ধরে আওয়ামী লীগের দোসর ও স্থানীয় নেতা পিয়াস, শাহাদাত, নয়ন, রিয়াজ, নিরব, আকাশসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল। তারা ধারালো ছুরি, চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং পায়ে চারটি গুলি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলেও তারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৪৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি হত্যা মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এসব বিষয় র্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কাছেও আলোচিত বলে দাবি করে ভুক্তভোগীর পরিবার।
শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক।
তিনি জানান, সন্ধার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তিনি ঢামেকের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টির সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে







