আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে শীতে মারা গেলেন বাংলাদেশি অন্ধ শাহ আলম

ডব্লিউআইভিবি

শেয়ারঃ

যুক্তরাষ্ট্রে শীতে মারা গেলেন বাংলাদেশি অন্ধ শাহ আলম

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বাফেলো শহরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অন্ধ ও গুরুতর অসুস্থ বাংলাদেশি নুরুল আমিন শাহ আলমের (৫৬) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের মতে, তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তারা তাকে একটি সড়কের মোড়ে রেখে যাওয়ার পাঁচ দিন পর তার মৃত্যু ঘটে।


গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শাহ আলমের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ইনভেস্টিগেটিভ পোস্টে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের একটি পরিচিত চিত্র তুলে ধরা হয়, বিশেষ করে বর্ণগত সংখ্যালঘু প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। পুলিশের সহিংস গ্রেপ্তার—যেখানে তার লাঠিকে অস্ত্র হিসেবে দেখা হয়েছিল—এবং পরবর্তীতে বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তাদের আচরণ, যেখানে তার অন্ধত্ব, ইংরেজি না জানা ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি—এসব ঘটনার ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

চলাফেরার জন্য একটি লাঠির প্রয়োজন হওয়ায় তিনি কাছের একটি দোকান থেকে পর্দার রড কিনেছিলেন। আইনজীবী বেঞ্জামিন ম্যাকালুসোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রড হাতে নিয়ে তিনি ব্ল্যাক রক এলাকায় হাঁটছিলেন। আবহাওয়া ঠান্ডা হয়ে এলে তিনি বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিভ্রান্ত হয়ে অপরিচিত এক ব্যক্তির বাড়িতে পৌঁছে যান।

ম্যাকালুসো জানান, এক নারী তার কুকুর বাইরে ছেড়ে দেওয়ার সময় শাহ আলমকে তার বারান্দায় দেখতে পান।

ম্যাকালুসো বলেন, তিনি এমন একটি অঞ্চল থেকে এসেছেন যেখানে মানুষ সাধারণত কুকুর পোষে না। কুকুরটি উত্তেজিত হয়ে পড়লে শাহ আলম ভয় পেয়ে যান। তখন ওই নারী পুলিশে ফোন করে জানান, তার ড্রাইভওয়েতে এক অজ্ঞাত কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন।

বাফেলো পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে পর্দার রড ফেলে দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু শাহ আলম নির্দেশ বুঝতে পারেননি বা স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি। বারবার নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেজার দিয়ে আঘাত করেন এবং মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে ম্যাকালুসো জানান।

চলতি মাসের শুরুতে একটি সমঝোতা চুক্তি গ্রহণের পর শাহ আলম মুক্তি পান। তার আইনজীবী ও সদ্য শহরে ফেরা পরিবার শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তাকে খুঁজেছেন। ম্যাকালুসো বলেন, ‘তিনি ফোন ব্যবহার করতে পারেন না, নিজের ঠিকানা বা ফোন নম্বর জানেন না, যোগাযোগ করতে পারেন না, দেখতে পান না—তবুও তাকে এভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল।’

রোববার বাফেলো পুলিশ একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। তবে পরদিন ভুলভাবে ধরে নেওয়া হয় যে তিনি আইসিই হেফাজতে আছেন এবং মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি টিম কেনেডি শাহ আলমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইভিবি-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘মি. আলম আজ জীবিত থেকে পরিবারের সঙ্গে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার পর তার পরিবার এখন অকল্পনীয় শোকের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত হতে হবে। জনগণ ও তার পরিবার অবিলম্বে উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে।’



সম্পর্কিত খবর