আন্তর্জাতিক

ভূমিকম্পে এক মিনিট ধরে কাঁপল কলকাতা

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

ভূমিকম্পে এক মিনিট ধরে কাঁপল কলকাতা

ছবি : সংগৃহীত

বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ ও ভারত। উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা হওয়ায় প্রতিবেশী দেশ দুটির সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশি প্রভাব পড়েছে। জোরেশোরে ঝাঁকুনি খেয়েছে কলকাতা নগরী। প্রায় এক মিনিট ধরে কেঁপেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে নগরবাসী রাস্তায় নেমে আসেন। ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় জড়ো হন বিভিন্ন সড়ক, মাঠসহ ফাঁকা স্থানে।


রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা প্রায় ৫ দশমিক ৪ছিল। কলকাতার বিভিন্ন এলাকার বহুতলে জোর ঝটকা অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে বিভিন্ন এলাকায় মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে যায়।

দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে কম্পন অনুভূত হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভূমিকম্পের উৎসস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার নিচে। সাতক্ষীরা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম হওয়ায় শহরটিতে কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।

কলকাতার নবান্ন, বিধানসভা ও নির্বাচন কমিশনের অফিসসহ শহরের বিভিন্ন বহুতলে ঝটকা লাগে। অনেক কর্মচারী আতঙ্কে অফিস খালি করে বেরিয়ে আসে। বিধানসভার বাইরে বিধায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিরাপদ স্থানে চলে যান। শহরের আশপাশের জেলাগুলোতেও কম্পন অনুভূত হয়।

জানা গেছে, ভূমিকম্পের কারণে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মেলেনি। তবে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, শহরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন কম্পনের কারণে বহুতল ভবনগুলোতে বেশি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে অনির্দিষ্ট সময়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে নাগরিকরা আতঙ্কিত হলে শান্ত থাকুন ও নিরাপদ স্থানে চলে যান।


এই কম্পন এক মিনিটের মতো স্থায়ী হলেও শহরের বিভিন্ন কোণ থেকে একই ধরনের কম্পন অনুভূত হয়েছে। শহরের মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়া এবং অফিসে থাকা কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। শহরের জরুরি পরিষেবা ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক আছে। কেউ আহত হয়েছেন কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। শহরের মানুষ আতঙ্কিত হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ স্থানে অবস্থানকারী মানুষ ক্রমেই নিজ নিজ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, এ ধরনের কম্পন অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটতে পারে। তাই ভবিষ্যতে নাগরিকদের সচেতন থাকা জরুরি। শহরের বিভিন্ন বহুতল ভবনেও কম্পনের কারণে ঝাঁকুনি লেগেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। কলকাতায় ভূমিকম্পের এ ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের জন্য সতর্কতার এক নতুন সংকেত। মানুষ আতঙ্কিত হলেও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।


সম্পর্কিত খবর