সারাদেশ

দলিল ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা, সিসিটিভি ফুটেজে যুবদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

দলিল ছিনিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা, সিসিটিভি ফুটেজে যুবদল নেতা

ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহ সদর সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে টাকার লোভে দলিল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আর সিসিটিভি ফুটেজে যুবদল নেতার ছবি মিলেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী।


রোববার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।

ভুক্তভোগী মো. ইউনুছ আলী (৬৩) সদর উপজেলার অসাননগর গ্রামের মৃত আজগর আলীর ছেলে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করতে সংগ্রহ করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ।

খবর নিশ্চিত করেছেন সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মোস্তাক হোসেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি তার।

ভুক্তভোগী ইউনুছ আলী অভিযোগ করেন, নিজ বড়িসংলগ্ন আহম্মেদ মালিথার স্ত্রী কমেলা নেছার নামীয় যাতায়াতের এক টুকরা জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বিরোধপূর্ণ ওই জমি একই গ্রামের প্রভাবশালী নুর মোহাম্মদ, সাইদুল ইসলাম , নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন ক্রয় করার চেষ্টা করেন। টের পেয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমি রেজিস্ট্রি না করার জন্য সাবরেজিস্ট্রারের কাছে আপত্তি জানান ইউনুছ আলী।


সাবরেজিস্ট্রার মোস্তাক হোসেন রোববার (১লা মার্চ) সব দলিলপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য হাজির হতে বলেন ইউনুছ আলীকে। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে দিকে সদর সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে উপস্থিত হন তিনি। সঙ্গে নিয়ে আসেন বিরোধপূর্ণ জমির দলিলপত্রসহ আদালতের প্রমাণাদি; কিন্তু সাবরেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা মেলে না তার।

সাবরেজিস্ট্রারের খাস কামরার সামনে ওয়েটিং রুমের একটি চেয়ারে বসা ছিলেন ইউনুছ। সকাল অনুমান ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে একদল দুর্বৃত্ত সেখানে এসে হাজির হয়। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে থেকেই সঙ্গে থাকা ব্যাগসহ দলিলপত্র ছিনিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ইউনুছ আলী জানান, ব্যাগে মাত্র উনিশ টাকা ছিল তাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে তাকে। পরে দিশেহারা হয়ে ছুটে যান সাবরেজিস্ট্রারের কাছে; কিন্তু সাবরেজিস্ট্রার ইউনুছের সামনেই প্রতিপক্ষদের (ইউনুছের) নামে করা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন।

এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ইউনুছের সন্ধানে নামে যুগান্তর। দুপুরের দিকে তার সন্ধান মেলে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে একটি কড়াই গাছের নিচে। ইউনুছ জানান, গ্রামের প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে জেলা শহরের ব্যাপারীপাড়ার যুবদলের এক নেতাকে ভাড়া করে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারাও বিএনপি করে। আমিও বিএনপির নির্যাতিত একজন কর্মী।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুজ্জামান মনা জানান, যে দলের নেতাই হোক আইন ছাড়বে না তাকে।

এদিকে আসল খবর জানতে দুপুর আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগীকে (ইউনুছ) সঙ্গে নিয়ে প্রথমে সদর থানা এবং পরবর্তীতে পুলিশসহ সদর সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে হাজির হয় অনুসন্ধানী দল। সেই সময় সাবরেজিস্ট্রার এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। ইউনুছ ও সাবরেজিস্ট্রারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। আগে থেকেই প্রস্তুত সাবরেজিস্ট্রারের দপ্তরের চিহ্নিত একটি গ্রুপ ছুটে আসে সেখানে।


প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে ইউনুছকে গালমন্দ শুরু করে তারা। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে টাউট বলেও আখ্যায়িত করে সাবরেজিস্ট্রারের লোকজন। সদর থানার এসআই রাজিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের পুলিশ দল উপস্থিত হওয়ার পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দপ্তরটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায়, ইউনুছ সাবরেজিস্ট্রারের খাস কামরার সামনে চেয়ারে বসে ফোনে কথা বলছেন। হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন মোটাসোটা এক যুবক। আগে থেকে ঘিরে থাকা কয়েক ব্যক্তি চিনিয়ে দেয় ইউনুছকে। কিছু আঁচ করার আগেই ঠাণ্ডা মাথায় কথিত ওই যুবদল নেতা ব্যাগসহ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। হতভম্ব হয়ে পড়েন ইউনুছ। পিছুপিছু ছুটে যান তিনি; কিন্তু কাগজপত্রভর্তি ব্যাগ ফেরত পেলেন না তিনি।

ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই রাজিব জানান, সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। তিনি আরও জানান, দলিলপত্র উদ্ধার করতে ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ভুক্তভোগী (ইউনুছ) বিকাল (রোববার) ৫টার দিকে জানান, থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। থানার ডিউটি অফিসার (নারী) অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন কিন্তু রিসিভ কপি দেননি।



সম্পর্কিত খবর