লাইফস্টাইল
ব্লাড সুগার ওঠানামা প্রতিরোধ করতে যেসব অভ্যাস মেনে চলবেন

ছবি : সংগৃহীত
সকালের শুরুটাই অনেক সময় ঠিক করে দেয় আপনার সারাদিনের কর্মক্ষমতা, মনোযোগ এবং শরীরের কার্যক্ষমতা। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে, তাদের জন্য দিনের প্রথম এক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু সহজ কিন্তু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হয়। সকালের রুটিন শরীরের হরমোন, ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া এবং সারাদিনের শক্তির ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৪টি অভ্যাস, যা আপনার সকাল এবং সুগার লেভেল দুটোকেই ভালো রাখতে পারে।
১. শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ির (বায়োলজিক্যাল ক্লক) যত্ন নিন
আমাদের শরীরে একটি প্রাকৃতিক সময়চক্র বা সার্কাডিয়ান রিদম রয়েছে। এটি ঠিক থাকলে হরমোনের ভারসাম্যও ভালো থাকে। এজন্য প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, সকালে কিছুক্ষণ রোদে থাকা এবং রাত জেগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো জরুরি। এতে কর্টিসল ও ইনসুলিনসহ গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলো সঠিকভাবে কাজ করে, ফলে ব্লাড সুগার স্থিতিশীল থাকে।
২. দিন শুরু করুন স্বাস্থ্যকর পানীয় দিয়ে
খালি পেটে কী খাচ্ছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভেজানো মেথির পানি বা দারুচিনির পানি দিয়ে দিন শুরু করতে পারেন। এগুলো রক্তে শর্করা ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং শরীরকে সকালের খাবারের জন্য প্রস্তুত করে।
৩. নাশতার আগে শরীরকে সক্রিয় করুন
ঘুম থেকে উঠেই বসে না পড়ে কিছুক্ষণ শরীরচর্চা করুন। হালকা স্কোয়াট বা দ্রুত হাঁটাচলা করতে পারেন। এতে মাংসপেশি রক্ত থেকে গ্লুকোজ ব্যবহার করে নেয়, ফলে খাবারের পর হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে।
৪. পুষ্টিকর নাশতা বেছে নিন
শুধু পরোটা, পাউরুটি বা কর্নফ্লেক্স দিয়ে সকাল শুরু না করে নাশতায় প্রোটিন (ডিম, পনির, ডাল, দই), ফাইবার (সবজি, বীজ) এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি (বাদাম, ঘি, বীজ) রাখুন। এতে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমে এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা হয় না। পাশাপাশি সারাদিন শক্তিও পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করে না—জীবনযাপনের ছোট ছোট পরিবর্তনই এখানে বড় ভূমিকা রাখে। তাই দিনের শুরুটা যদি সচেতনভাবে করা যায়, তাহলে সুগার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামগ্রিক সুস্থতাও বজায় রাখা সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি







