রাজনীতি

দিল্লির কথায় বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

দিল্লির কথায় বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। আপনারা সরকার গঠন করেছেন এবার জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। দিল্লির কথায় দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না।


সোমবার বিকালে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে উপনির্বাচনি গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দল মনোনীত প্রার্থী ও বগুড়া শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারী শক্তি সদস্য সচিব ও এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল হক সরকার।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়ে হাসপাতালে শুয়ে আছেন এই মানুষগুলো একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। শেখ হসিনার ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙ্গে নতুন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চেয়েছিলেন তারা। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে হ্যাঁ’তে ভোট দিতে বলেছিলেন। জনগণ ভোট দিয়ে হ্যাঁ বিজয়ী করার পর এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। যেই পাঁচ কোটি ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন তাদের সঙ্গে প্রতারণা জাতি ভুলবে না।


সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অতীতে কেউ সুবিধা করতে পারেনি। শেখ হাসিনা যেমন মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন, সেভাবে বিএনপিও সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোট, গুম কমিশন সংস্কারসহ জুলাই সনদের গুরুত্বপূর্ণ আদেশগুলো বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে সরকারের এসব গণবিরোধী উদ্যোগের প্রতিবাদ করছে। একই সঙ্গে রাজপথে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দেশের পাঁচ কোটি মানুষ গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যেই ম্যান্ডেট দিয়েছে কোনো অপশক্তি যেন সেই ম্যান্ডেট নস্যাৎ করতে না পারে সেজন্য জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী জোট সবসময় সজাগ রয়েছে।


সংসদের আলোচনায় কাজ না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আসন্ন উপনির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করে শুধু ভোটারদের অসম্মান করছেন তা নয়। তারা নিজেদের ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করছে। ৩১ দফার প্রথম দফায় সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন তারা নিজেদের প্রতিশ্রুতিও মানতে চান না। তারা মুখে এক কথা আর কাজে আরেকটা করে নিজেদেরকে কী প্রমাণ করছেন সেটা জাতি ভালো করেই বুঝে গেছে।


তিনি বলেন, সরকার সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়, চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয় করণ করছে, ঋণ খেলাপিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন- একজন ঋণখেলাপি কিভাবে দেশের অর্থনীতি ঠিক করবে? তিনি আসন্ন উপনির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে ভোটারদের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


পরে অতিথিরা শহরের শহীদ খোকন পার্কে আরেকটি নির্বাচনি গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আসম আব্দুল মালেক, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকার, এনসিপির জেলা সভাপতি এমএসএ মাহমুদ, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুস ছালাম তুহিন, আব্দুল হামিদ বেগ, ইকবাল হোসেন, হেদাইতুল ইসলাম প্রমুখ।


সম্পর্কিত খবর