আন্তর্জাতিক
মোদির সভায় ৪০০ মোবাইল উধাও, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী সভাকে ঘিরে বড়সড় চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। সভাস্থল পোলো গ্রাউন্ড থেকে কয়েকশ মানুষের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ এবং গয়না চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে এই সভায় অংশ নিতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু মানুষ। সভা শেষ হতেই সামনে আসে একের পর এক চুরির অভিযোগ। দলীয় সূত্রের দাবি, প্রায় সাড়ে চারশ কর্মী ও সমর্থকের মোবাইল ফোন খোয়া গিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের মানিব্যাগ ও সোনার গয়নাও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য অনুযায়ী, সভার ভিড়ের মধ্যেই অজান্তে এই চুরির ঘটনা ঘটে। কুলটি এলাকার বাসিন্দা ঝুলন মাঝি জানান, তিনি সভায় এসে মোবাইল হারিয়েছেন এবং পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। একইভাবে ফাল্গুনী দাস নামে এক মহিলা জানান, তার মোবাইলও ভিড়ের মধ্যে চুরি হয়ে যায়। তিনি দ্রুত মোবাইল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যার পর হিরাপুর থানার সামনে বিক্ষোভে বসেন ক্ষতিগ্রস্তরা। মোবাইল ও অন্যান্য হারানো জিনিস দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে সেখানে স্লোগান দেওয়া হয়। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। পরে অবশ্য অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সভায় বাইরের লোকজন ঢোকানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ফাঁক ছিল। তাদের অভিযোগ, এত বড় সমাবেশে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। এর ফলেই এত বড় সংখ্যায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।
তবে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় বলেও উঠে এসেছে। এর আগে দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলের একাধিক রাজনৈতিক সভায় মোবাইল চুরির অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি একাধিক নেতার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যেই কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কোনো পুলিশ আধিকারিক প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা শুধু প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েই প্রশ্ন তোলে না, বরং বড় সমাবেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায়। বিশেষ করে যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন, সেখানে এমন অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সব মিলিয়ে, আসানসোলের এই ঘটনা নির্বাচনী আবহে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কত দ্রুত এগোয় এবং ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের হারানো জিনিস ফেরত পান কি না।






