লাইফস্টাইল

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো কী, কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ

নিউজ ডেস্ক

শেয়ারঃ

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণগুলো কী, কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ

ছবি : সংগৃহীত

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার (ওভেরিয়ান ক্যান্সার) হচ্ছে নারীদের প্রজননতন্ত্রের অন্যতম জটিল রোগ। এটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো ঠিকভাবে ধরা পড়ে না, ফলে অধিকাংশ রোগী তখনই চিকিৎসকের কাছে আসেন, যখন রোগটি ইতোমধ্যে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।


তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে প্রজননতন্ত্রের ক্যান্সারের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, যা মোট নারী ক্যান্সারের প্রায় ৫ শতাংশ।

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ পেটের সমস্যার মতো মনে হয়।দীর্ঘদিন ধরে পেট ফেঁপে থাকা, তলপেটে বা কোমরে ব্যথা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি, ক্ষুধামন্দা, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ, হজমে সমস্যা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি—এসব উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সি নারীদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বয়স বৃদ্ধি, পরিবারে ডিম্বাশয় বা স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস, নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন (যেমন BRCA1 ও BRCA2), সন্তান না হওয়া, দেরিতে মেনোপজ এবং স্থূলতা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে এসব ঝুঁকি থাকলেই যে ক্যান্সার হবে, এমনটা নয়।আবার কোনো ঝুঁকির কারণ না থাকলেও এ রোগ হতে পারে।


ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধের নিশ্চিত কোনো উপায় নেই। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। যাদের পরিবারে এই ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে জিনগত পরামর্শ (Genetic Counseling) গ্রহণ করা উচিত। নিজের শরীরে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ।

রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, রক্তের CA-125 পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি করার প্রয়োজন হতে পারে।প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সফলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগের ধাপ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ (Targeted Therapy) এবং কিছু ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়। আধুনিক চিকিৎসার ফলে বর্তমানে অনেক রোগী দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হচ্ছেন। তাই ক্যান্সার মানেই জীবনের সমাপ্তি—এ ধারণা ভুল।

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো সচেতনতা। দীর্ঘদিনের পেটের অস্বস্তি বা অন্যান্য অস্বাভাবিক লক্ষণকে গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পরিবার ও সমাজে নারীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তাই নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন, অন্যদেরও সচেতন করুন—কারণ সময়মতো শনাক্তকরণই ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।


লেখক: উপ-পরিচালক

টিবি হাসপাতাল।



সম্পর্কিত খবর