সারাদেশ

এজলাস-বিচারকের কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক

শেয়ারঃ

এজলাস-বিচারকের কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

ছবি : সংগৃহীত

‎‎চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের এজলাস কক্ষ ও বিচারকের খাসকামরার দরজা ও জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

‎রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষ এবং যুগ্ম জেলা জজ মো. উজ্জ্বল মাহমুদের খাসকামরায় এ ভাঙচুর চালানো হয়।


‎জানা যায়, একটি রাজনৈতিক মামলায় যুবদল নেতা তুফান আলীকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ সেই মামলার শুনানি চলাকালে অন্য ৪ আসামির জামিন মঞ্জুর করলেও তুফানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি আদালত। এরপরই আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাসকামরায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


‎আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্ট থাকা বাকি ৪ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে জামিন মঞ্জুর করলেও এজলাস কক্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন নেতাকর্মীরা। এ সময় বিচারক ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন এবং লোডশেডিং থাকায় অতিরিক্ত লোকজনকে এজলাস কক্ষ ত্যাগের জন্য বলার পরপরই ক্ষিপ্ত হন নেতাকর্মীরা।


এ সময় এজলাস কক্ষে ধাওয়া করে দরজা জানালা ভাঙচুর করলে বিচারক খাসকামরায় চলে যান। পরে সেখানকার দরজায় ভাঙচুর ও স্লোগান দেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

‎এদিকে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা তুফানের জামিনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও তা নিয়ে টালবাহানা করেন বিচারক। এমনকি বিদ্যুতের বিষয়েও সরকারের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি (বিচারক) উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময়েই বিদ্যুতের অবস্থা ভালো ছিল। এরপরই নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হলে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।


‎এ ঘটনায় আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।


‎এ সময় তারা বিচারক উজ্জ্বল মাহমুদকে ফ্যাসিস্টদের দোসর উল্লেখ করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আলটিমেটাম দেন। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। ঘটনার পরপরই আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


‎মামলার আসামি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মিম ফজলে আজিম বলেন, বিচারক বিচারকাজ করবেন নিরপেক্ষ ও স্বাভাবিকভাবে; কিন্তু তিনি বিচারকাজ চলার সময়েও বর্তমান সরকারকে নিয়ে বিদ্রূপ মন্তব্য করেছেন। এ সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি নিজেকে গোপালগঞ্জের বলে জানান। আমাদের ধারণা, তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর। তা না হলে আওয়ামী লীগের সময়ে করা মিথ্যা বানোয়াট রাজনৈতিক মামলায় নিরপরাধ নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেন না। আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।


‎আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম টিপু বলেন, আদালতের নথি ও কার্যাবলী তালিকার সঙ্গে গড়মিল থাকায় গত ধার্য তারিখে বিচারক আসামিদের ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। বিষয়টি আমি প্রমাণ স্বরূপ কাগজপত্র বিচারকের কাছে পেশ করি এবং বিচারক চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতে বিদ্যুৎ না থাকায় বিচারক মন্তব্য করায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের নিষেধ করলে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‎চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হাসিব জানান, ৫ আগস্টের পর যেসব মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা। ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি বিচার বিভাগের প্রতি হুমকি স্বরূপ ঘটনা। আমি মনে করি, যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তদন্তসাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

‎জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল ওদুদ বলেন, নির্বাচন অফিসের পেছনে ককটেল হামলার ঘটনায় তাদের আসামি করা হয়। তারা জামিনে ছিল; কিন্তু একটি তারিখ মিস হওয়র কারণে ওয়ারেন্ট হয়ে যায়। তারা আদালতে আজ আত্মসমর্পণ করে। চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পুলিশের হাতে আটক একজন আসামির জামিনের আবেদনের আগেই বিচারক নেমে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। এটি বহিরাগতদের কাজ। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।


‎এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা বিচারকদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা জোর নিরাপত্তা চেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিচারকের খাসকামরা ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।



সম্পর্কিত খবর