আন্তর্জাতিক

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত যত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি ও এএফপি

শেয়ারঃ

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত যত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি

ছবি : সংগৃহীত

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত হামলা 'অপারেশন এপিক ফিউরি' ও 'অপারেশন রোরিং লায়ন'। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয় নেমে এসেছে।

গত কয়েক দিনের টানা সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান, ইসরাইল এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের তীব্রতায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বেসামরিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে এক হাজার ৯৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ড্রোন হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থীর মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে শোকের ছায়া ফেলেছে। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে ইরান বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রায় ২,০০০ বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং নৌবাহিনীর ১৭টি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনসহ অন্তত ৪৯ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা এই অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরাইলের ওপর শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরে একটি আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত ৮ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের দেশে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।


এছাড়া ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনে মোতায়েন করা ৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল ইরান বা ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। লেবানন, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।

ওমান ও আমিরাতের বন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত হওয়ায় ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


সম্পর্কিত খবর