সারাদেশ

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বস্তাপ্রতি আলুতে দিতে হয় ২০ টাকা চাঁদা

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

বস্তাপ্রতি আলুতে দিতে হয় ২০ টাকা চাঁদা

ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার শাজাহানপুরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিনের বিরুদ্ধে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছে বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।


প্রায় এক মাস ধরে চলা এ চাঁদাবাজির ব্যাপারে ভুক্তভোগী কৃষক থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ অভিযোগ নিয়ে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা জড়িত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।


বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাবিব আব্বাসী অভিযোগ করেছেন, আলুবোঝাই ট্রাক বা ট্রাকে আলু তুললে বা জমিতে বস্তায় আলু তোলার সময় সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয়ে যুবকরা যান। পরে ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। তাদের বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে চাঁদা দিলেই কৃষকরা রেহাই পান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ফসলের মাঠে গিয়ে কৃষকদের কাছে চাঁদাবাজি করতেন। আলুর মৌসুমে এ চাঁদাবাজির পরিমাণ বেশি ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ চাঁদাবাজি কিছুটা বন্ধ ছিল। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত দিনের মতো স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী একই কায়দায় চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।


গত রোববার সন্ধ্যার দিকে এক কৃষক আলু হিমাগারে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন যুবক ট্রাক থামিয়ে চাঁদা দাবি করতে থাকেন। তখন স্থানীয় জনগণ একত্র হয়ে ধাওয়া করলে চাঁদাবাজরা পালিয়ে যান।


কৃষক মেহেদী হাবিব আব্বাসী অভিযোগ করেন, তিনি গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি থেকে আলু নিয়ে হিমাগারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে পৌঁছলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদ হোসেনসহ কয়েকজন ট্রাকের গতিরোধ করেন। এ সময় তারা প্রতি বস্তা আলুর জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাঁদাবাজরা তাকে তুলে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত জনগণ টের পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের ধাওয়া করেন।


প্রত্যক্ষদর্শী তাজনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ কৃষক আব্বাসীর এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহাজানপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি কৃষকদের কাছে চাঁদা দাবির কথা দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় এক কৃষক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করছেন। তাদের লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে বুধবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে অভিযোগ দেয়নি।


তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল বলেন, তাদের দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।



সম্পর্কিত খবর