সারাদেশ
বিমানবন্দরে এমপিকে স্বাগত জানালেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি!

ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপির এমপি শফিকুল হক মিলনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি। পরে আসামি রাইসুল ইসলাম এমপির গাড়িবহরের সঙ্গে উপজেলার কেশরহাটে একটি ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
রাইসুল নিজেই তার ফেসবুক আইডিতে ছবিসহ এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন।
এর আগে, গত ৮ মার্চ মোহনপুরের সাঁকোয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের হাতাহাতির মধ্যে জামায়াতকর্মী মো. আলাউদ্দিন (৬৫) নিহত হন। ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন কে, তা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। নিহত আলাউদ্দিন উপজেলা মডেল মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। এ ঘটনায় তার ছেলে এমরান আলী বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে বলা হয়, আলাউদ্দিনের বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করে তাকে হত্যা করা হয়।
মামলার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়। ১ নম্বর আসামি রাইসুল ইসলাম রাসেল। তিনি কেশরহাট পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক। বর্তমানে তিনি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়াও তিনি তানোরের সরনজাই কলেজের প্রভাষক হিসেবে রয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরেন এলাকার এমপি শফিকুল হক মিলন। এ সময় বিমানবন্দরেই এমপির সঙ্গে সেলফি তোলেন রাইসুল ইসলাম। পরে তিনি ফেসবুকে ওই ছবি পোস্ট করেন।
ক্যাপশনে লেখেন, ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম। তারপর কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে রওনা’। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীরা জানলে তিনি পোস্ট ডিলিট করে ফেলেন।
কেশরহাট পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোখলেসুর রহমান বলেন, বিষয়টা আমরা জানলাম। এয়ারপোর্ট থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোহনপুর থানার সামনে দিয়ে ইফতার মাহফিলে এলেন। আর পুলিশ নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। কেশরহাটে ইফতার মাহফিলে হত্যা মামলাটির অন্য আসামিরাও ছিলেন। আমরা খুবই আশ্চর্য হলাম। আইনের শাসন কোথায়?
মোবাইলে রাইসুল ইসলামকে হত্যা মামলায় জামিন নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো জামিন হয়নি। হাইকোর্ট থেকে জামিন হয়ে যাবে। জামিন না নিয়েই প্রকাশ্যে এমপির সঙ্গে থাকা এবং ছবি পোস্ট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ পর কথা বলবেন বলে জানান।
মোহনপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোদাস্বের হোসেন খান বলেন, আসামিদের জামিনের কোনো কাগজপত্র পাইনি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
বিমানবন্দর ও ইফতার মাহফিলে আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এয়ারপোর্ট তো মোহনপুর থানার ভেতরে না। আর ইফতারে কেউ ছিল কিনা সেটা জানি না।
এমপি শফিকুল হক মিলন অবশ্য গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, জামায়াতকর্মী আলাউদ্দিন মারা গেছেন স্ট্রোক করে। তিনি বলেন, রাইসুল এয়ারপোর্টে গেছে তো কী হয়েছে? হত্যা মামলাটা সঠিক না। আগে রিপোর্ট (ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন) আসুক। তারপর দেখা যাবে।







