সারাদেশ

নাটোরে পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশনে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

নাটোরে পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশনে ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে এক কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে উপজেলার জোয়াড়ী ইউনিয়নের কাছুটিয়া খেজুরতলা এলাকায় নির্মাণাধীন ওই গ্রিডে কর্মরত চারজন পাহারাদারকে বেঁধে রেখে এসব মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার ও বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড়।

গ্রিডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিবিসি) উদ্যোগে এ সাব-স্টেশনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্রিডে বতর্মানে সিভিল কন্ট্রাকশান ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। এখানে সার্বক্ষণিক চারজন পাহারাদার নিযুক্ত রয়েছেন। ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছে চায়না ন্যাশনাল ওয়ার অ্যান্ড ক্যাবল ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিসি কোম্পানি)।


চায়না কোম্পানি সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, লুটকারীরা প্রায় এক কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৩৬৮টি ব্যাটারি, ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের দুই হাজার মিটার তামার তার এবং ২৬ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার অন্যান্য সামগ্রী লুটে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এক কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।


তিনি আরও জানান, এখানে দুটি সিসি ক্যামেরা ছিল। তারা এসব সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে পাহারাদারদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।

পাহারাদার মকছেদ আলী (৪২) বলেন, আমিসহ আবুল কাশেম (৫৫), শফিকুল ইসলাম (৪৮) ও তার ছেলে সোহাগ (২৪) এখানে পাহারাদারের কাজ করি। আমরা সবাই কাছুটিয়াসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার সন্ধ্যায় আমরা সবাই ডিউটিতে ছিলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শফিকুল খেতে যান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে নক করলে গেট খুলে দেই। এ সময় হঠাৎ ৫ থেকে ৬ জন লোক শফিকুলের কলার ধরে ভেতরে নিয়ে আব্দুস সাত্তার নামে একজনকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় আমরা সাত্তার নামে কেউ নেই জানালে তারা ঘরে চেক করার নামে আমাদের চারজনকেই ডেকে নিয়ে আসেন। পরে আরও ১৫ থেকে ২০ জন লোক ভেতরে ঢুকেন। একপর্যায়ে তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমাদের হাত, মুখ, চোখ ও পা বেঁধে ফেলেন।

অন্য পাহারাদার সোহাগ হোসেন বলেন, আমাদের একটি ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এরপরে সাব-স্টেশনের ভেতরে গাড়ি ঢোকা এবং বিভিন্ন কাজ করার শব্দ পাই। প্রায় রাত ১টা পর্যন্ত তারা এসব করেছে। পরে বেশ কিছুক্ষণ শব্দ না পেয়ে অনেক চেষ্টা করে সোহাগ প্রথমে নিজেকে মুক্ত করে এবং সবার বাঁধন খুলে দেন। আমরা জানালার পর্দার স্ট্যান্ড দিয়ে ছিটকিনি খুলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বের হই। এরপর বাইরে গিয়ে একজনের মোবাইল নিয়ে ৯৯৯ এ এবং আমাদের স্যারদের কল করে জানাই।


নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মাহবুবুর রশীদ জানান, পাওয়ার গ্রিডের নির্মাণ কাজ শেষের পথে। এখান থেকে বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, নাটোর সদর, লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। আগামী জুন মাসে এটি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ঘটনার পরে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করাটা কঠিন হয়ে গেল।

বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার কারণ উদঘাটনে আমাদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের টিম কাজ শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।



সম্পর্কিত খবর