সারাদেশ
ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ যাত্রী নিহত, ২ গেটম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বাসের ১২ যাত্রী নিহতের ঘটনায় দুই গেটম্যানকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সোমবার দুপুরে শেফালী আক্তার (৫৮) নামের এক নারী বাদী হয়ে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যান মো. হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রেলক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার ভোররাতের ওই ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দুজনকে বরখাস্ত করেছিল রেলওয়ে বিভাগ।
মামলায় বাদী শেফালী আক্তার নিজেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সোহেল রানার (৪৬) খালা বলে উল্লেখ করেছেন। সোহেল রানা দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের একজন। শেফালী আক্তার লাকসাম উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের প্রয়াত আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী।
মামলার প্রধান আসামি মো. হেলাল (৪১) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পদুয়া বাজারের রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে থাকা রেলগেট নম্বর ই/৪৭-এর অস্থায়ী গেটম্যান হিসেবে কর্মরত। অন্য আসামি মেহেদী হাসান (৩৩) বুড়িচং উপজেলার বাহিরীপাড়া এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি ওই লেভেল ক্রসিংয়ে ওয়েম্যান হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে আছেন।
বাদী শেফালী আক্তার এজাহারে উল্লেখ করেন, নিহত সোহেল রানা তার বোনের ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত ১৫ রমজানে প্রবাস থেকে বাংলাদেশে ছুটিতে আসেন। ঈদের দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে ঝিনাইদহের খালিশপুর বাস কাউন্টার থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহণের বাসে করে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী সন্তান লাকসামে বেড়াতে রওনা দেন। রোববার ভোররাত ৩টার দিকে বাসটি পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে আসে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ওয়ান আপ ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণে বাসটি ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়। এ সময় ইঞ্জিনের মুখে করে বাসটি টেনে-হিঁচড়ে প্রায় এক কিলোমিটার নিয়ে যায় ট্রেনটি।
লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসীম উদ্দিন খন্দকার বলেন, পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা এজাহার পেয়েছি। এতে ওই লেভেল ক্রসিংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী হেলাল ও মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছে। আমরা তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, ঈদের পর দিন রোববার ভোররাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন স্পেশাল পরিবহণের একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন। এতে প্রাণ হারান ৭ জন পুরুষ, ২ নারী, ৩ শিশু। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন অন্তত ১০ জন।
ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের দায়িত্বহীনতায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ক্রসিংয়ে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি তদন্ত কমিটি।





