প্রবাস
লিবিয়ার বন্দিশালায় নির্যাতনে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত
উন্নত জীবনের আসায় ইতালিতে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন মাদারীপুরের ডাসারের মো. জহিরুল আকন (২৫) । দীর্ঘ কয়েক মাস লিবিয়ার গেমঘরে দালাল চক্রের অমানবিক নির্যাতনে তিনি মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহত জহিরুল আকন উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিন ধূয়াসার গ্রামের শামসুল হক আকনের ছেলে। পরিবারের একমাত্র ভরসা জহিরুলের মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ তার স্বজনরা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে জহিরুলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার পরিবার।
পরিবার জানায়, ডাসার উপজেলার তারক দাস ও জাকির মাতুব্বর নামে দুইজন আদম ব্যবসায়ী অল্প টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে সাগর পথে ইতালি লোক পাঠান। এ কথা জেনে তাদের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে জহিরুল অবৈধ পথে ইতালি যেতে রাজি হন। তাই জহিরুল প্রথমে ২৫ লাখ টাকা দেন। পরে জহিরুলকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রায় পাঁচ মাস আগে লিবিয়া নিয়ে যায় দালালরা।
তাকে লিবিয়া পৌঁছানোর পর অন্ধকার এক ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করে ভিডিও কলে জহিরুলের পরিবারকে টাকা পাঠাতে চাপ দিত দালালরা। এই পর্যন্ত পরিবারের কাছ থেকে মোট ৪৫ লাখ টাকা নেয় তারক দাস ও জাকির মাতুব্বর। হঠাৎ রাতে খবর আসে জহিরুল মারা গেছেন।
নিহত জহিরুলের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, আমরা জাকির মাতুব্বরের কাছে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছি। তবে এ পর্যন্ত জাকির ও তারকের কাছে মোট ৪৫ লাখ টাকা দিয়েছি। তাদের দাবি করা আরও টাকা দিতে না পারায় জাকির ও তারক মিলে নির্যাতন করে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তাদের নামে মামলা করব।
অভিযুক্ত তারক দাসের মা মিনতী দাস জানান, তার ছেলে প্রায় শতাধিক লোক লিবিয়া দিয়ে ইতালি পাঠিয়েছে।
অভিযুক্ত তারক দাস ও জাকির মাতুব্বরকে এলাকায় পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, জহিরুল আকনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দিলে তা নেওয়া হবে।





