সারাদেশ
কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রকৌশলীকে ঠিকাদারের ধাওয়া

ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সড়ক নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত ও ধাওয়া করার অভিযোগ উঠেছে এক সহযোগী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

নবীনগরে নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন করছেন কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
সোমবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে মেরকুটা বাজার থেকে শিবপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পায় রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের হয়ে স্থানীয়ভাবে কাজটি তদারকি করছিলেন সহযোগী ঠিকাদার লোকমান হোসেন।
নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় সোমবার ঢাকা থেকে এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল এবং স্থানীয় প্রকৌশলীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান। এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী মীর্জা মো. তরিকুল ইসলাম কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ঠিকাদার লোকমান হোসেন। একপর্যায়ে তিনি সবার সামনেই ওই প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেন এবং মারধরের জন্য বাঁশ হাতে নিয়ে ধাওয়া করেন।
ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, কাজের অনিয়ম তুলে ধরার কারণে ঠিকাদার তাকে মারধরের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই প্রকৌশলী। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব নবীনগর থেকে অন্যত্র বদলি হওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা এবং কর্মকর্তার ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ওই ঠিকাদারকে গ্রেফতারের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী জানান, সংসদ সদস্য এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্ত ঠিকাদারকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’







