সারাদেশ

চট্টগ্রামে গান গেয়ে ও নেচে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

চট্টগ্রামে গান গেয়ে ও নেচে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ৫ জনের বিরুদ্ধে  চার্জশিট

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে গান গেয়ে, বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস করতে করতে শাহাদাত হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার দেড় বছর পর আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

চার্জশিটে এক কিশোরসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন- ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, আনিসুর রহমান, মেহেদী হাসান ও মো. মাজেদ। এছাড়া ১৬ বছর বয়সি কিশোরের বিরুদ্ধে আলাদা প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।

৮ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম সফিউল আজম মুন্সি বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শাহাদাত নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট পাঁচলাইশের প্রবর্তক মোড়ে নালার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহাদাতের বাবা মো. হারুন পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন।


আদালত সূত্রে জানা যায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে আটকের পর তাকে একদল যুবক ঘিরে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় বাইরের লোকজন যাতে বিষয়টি বুঝতে না পারে সেজন্য তারা গান গেয়ে, বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস করতে থাকে। নৃশংস ও পৈশাচিক এই হত্যার দৃশ্য ভিডিও করা হয়। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ সেই ভিডিওর সূত্র ধরে খুনিদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।


ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ গান গাইছে ও বাঁশি বাজাচ্ছে। আর তাদের মাঝখানে হাতবাঁধা এক যুবককে মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার চার দিনের মধ্যে পুলিশ ফরহাদ, আনিসুরসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে।

আটক এক কিশোর আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫-২০ জন মিলে শাহাদাতকে মারধর করে এবং সেও এতে অংশ নেয়।

মামলার তদন্তে সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামে আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়। কিন্তু তাদের পরিচয় বা ঠিকানা বের করতে না পারায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।


জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে প্রবর্তক মোড়ে নালা থেকে উদ্ধার হওয়া লাশ দেখে শনাক্ত করেন তারা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সফিউল আজম মুন্সী বলেন, আমার আগের তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তকাজ প্রায় শেষ করে গিয়েছিলেন। আমি তদন্ত চূড়ান্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছি। চার্জশিটে এক কিশোরসহ ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ভিডিও ও জবানবন্দির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছিনতাইকারী সন্দেহে শাহাদাতকে নেচেগেয়ে মারধর করে হত্যা করা হয়েছিল।


সম্পর্কিত খবর