সারাদেশ

পিস্তল দিয়ে বাবাকে গুলি, বিএনপি থেকে বহিষ্কার হলেন বাবা-ছেলে দুজনই

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

পিস্তল দিয়ে বাবাকে গুলি, বিএনপি থেকে বহিষ্কার হলেন বাবা-ছেলে দুজনই

সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে পিস্তল বের করে বিএনপি নেতা বাবাকে গুলি করেন ছেলে। এ ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সন্ত্রাস, হানাহানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খোকা মিয়া এবং সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি কর্মী তোফায়েল আহমেদ রানার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, হানাহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন।


প্রসঙ্গত, নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ছেলের ছোড়া গুলিতে বাবাসহ ২ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- বাবা খোকা মিয়া (৬০) ও খোকন মিয়া (৩৮)। খোকা মিয়া হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি ওই এলাকার মৃত আলম মিয়ার ছেলে। খোকন একই এলাকার ফাইজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে খোকা মিয়া প্রচারণা করেন। তার ছেলে তোফায়েল আহমেদ রানা (৩৫) বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মুর্শেদ আলমের (হরিণ প্রতীক) পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বিজয়ী হন। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।


ঘটনার দিন দুপুরে জামিরদিয়া এলাকায় রানা তার ব্যক্তিগত অফিসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় খোকা মিয়া সেখানে গিয়ে ছেলেকে শাসন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে বাবাসহ খোকন মিয়াকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে খোকা মিয়ার পিঠ ও মাথায় গুলি লাগে।


তাকে রক্ষা করতে গেলে খোকন মিয়াও হামলার শিকার হন। এ সময় রানার অনুসারী নিজাম, নাহিদ, আল-আমিন, রিফাতসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন দা ও চাপাতি দিয়ে তাদের কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। পূর্বের ঘটনার জেরেই আজকের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সবাই চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত।



সম্পর্কিত খবর