সারাদেশ

জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ায় জমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতা খুন হয়েছেন।


রোববার সকালে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া শাহী মসজিদের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ৮টার দিকে তিনি বগুড়ায় শেরপুর উপজেলার চান্দাইকোনায় মারা যান।

এ ব্যাপারে নিহতের শ্যালক আলী আজম শেখ রোববার গভীর রাতে সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পরে র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির সদস্যরা এজাহার নামীয় দুই আসামি মা ও ছেলেকে গ্রেফতার করেছেন। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।


র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ ও সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম এ তথ্য দিয়েছেন।

গ্রেফতার দুজন হলেন-বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়ার হযরত আলীর ছেলে প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদ বিক্রম (৩২) ও তার মা ৩নং আসামি বেবি খাতুন (৫২)।

পুলিশ, মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মাওলানা সাইফুল ইসলাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের রামকৃষ্টপুর গ্রামের মৃত নওশের আলীর ছেলে। তিনি বগুড়া শহরের খান্দার এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি বগুড়া শহর জামায়াতের উলামা বিভাগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় ছিলিমপুর উত্তরপাড়া কোটা মসজিদের খতিব ছিলেন। শহরের খান্দার পাসপোর্ট অফিসের সামনে হজ কাফেলার ব্যবসা করতেন।


হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলাম বগুড়া শহরের শহরের ঠনঠনিয়া শাহী মসজিদের পাশে বাড়ি নির্মাণের জন্য জায়গা কেনেন। রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রাজমিস্ত্রি নিয়ে ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছিলেন। তখন আসামিরা এসে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ভিকটিমের ওপর হামলা করা হয়।

প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদ চাকু বের করে সাইফুল ইসলামের তলপেটে আঘাত করেন। এরপর তারা ভিকটিমের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়রা সাইফুল ইসলামকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন।


ঢাকায় নেওয়ার পথে রোববার রাত ৮টার দিকে বগুড়ার শেরপুরের চান্দাইকোনায় তিনি মারা যান। সদর থানা পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

র‌্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ সোমবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলামের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেন। রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মোহনপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে এহাজারনামীয় প্রধান আসামি ইয়ার মোহাম্মদ বিক্রমকে গ্রেফতার করেন। এছাড়া তার হেফাজত থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। রাত সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে এজাহার নামীয় ৩নং পলাতক আসামি বেবি খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে সোমবার সকালে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।


সোমবার দুপুরে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার দুই আসামি মা ও ছেলেকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড প্রার্থনার আবেদন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।



সম্পর্কিত খবর