সারাদেশ

লাশ গোসলের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

লাশ গোসলের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় প্রায় আট দশক ধরে ব্যবহৃত লাশ গোসলের একটি জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জের সাবেক এক এমপি ও বর্তমান এক এমপির নাম ভাঙিয়ে জায়গাটি দখল করছেন তিনি। এ জায়গায় তিনি ঘর তুলে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। বিনিময়ে এক লাখ টাকা অগ্রীমও গ্রহণ করেছেন। জায়গাটি দখল করতে রিফিজিপাড়ার বাসিন্দারা বাধা দিতে এলে তাদেরকে জুলাই আন্দোলনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায় বিএনপির এ কর্মী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা, ক্ষোভ।


রিফিউজিপাড়ার বাসিন্দারা জানায়, ১৯৪৩ সালে সরকারিভাবে ‘কার্ড’ নিয়ে প্রায় ৪০টি উদ্বাস্তু (রিফিউজি) পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকায় বসবাস শুরু করে। তখন থেকেই প্রায় ১ শতাংশ আয়তনের একটি খোলা জায়গা কমিউনিটির জন্য সংরক্ষিত ছিল। ঐ এলাকার কেউ মারা গেলে সেখানেই লাশ গোসল করানো হতো। দীর্ঘদিন ধরে এটি অলিখিতভাবে কমিউনিটির লোকজন তাদের প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছেন।


১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ওই জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন আব্দুল মান্নান মনা ওরফে ড্রাইভার মনা নামে বিএনপির এক কর্মী।

স্থানীয়রা জানান, বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ‘ আব্দুল মান্নান মনা’ নামের এক ব্যক্তি জায়গাটি দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। গণেশ নামে এক হিন্দু ব্যক্তির কাছ থেকে ইতোমধ্যে তিনি এ ঘর বিক্রি বাবদ এক লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন বলেও এলাকাবাসী জানায়। আব্দুল মান্নান মনা ইতোপূর্বে সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের গাড়িচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে আসছেন।

ঐ এলাকার বাসিন্দা রুবি আক্তার বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, এই জায়গায় আমাদের মৃত স্বজনদের গোসল করানো হয়। এখন এমপি মান্নানের নাম ভাঙ্গিয়ে বিএনপি কর্মী মনা এখানে পাকা ঘর তুলে কার্ড বিহীন (বহিরাগত) এক পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়ার কথা বলছেন। এটা হলে আমাদের খুব কষ্ট হবে। এটা শুধু এক শতাংশ জমি নয়, আমাদের শেষ বিদায়ের জায়গা।


অভিযুক্ত মনা ফোনে এ প্রতিবেদকের কাছে গোসল করার জায়গা ছিলো স্বীকার করে বলেন, তবে আমি দখল করছি না, আপনারা আইসা দেখেন। আমি এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছি না বলে তিনি ফোন সংযোগ কেটে দেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানায়, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করার কোনো সুযোগ নেই।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মোস্তাফা নামের এক অফিসারকে তদন্ত করার জন্য বলেছি।



সম্পর্কিত খবর