সারাদেশ

যাত্রীর গলায় ছুরি ধরে ছিনতাই রিকশাচালকের

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

যাত্রীর গলায় ছুরি ধরে ছিনতাই রিকশাচালকের

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী মহানগরীতে এক নারীর গলায় ছুরি ধরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে মহানগরীর ভদ্রা ফ্লাইওভারের নিচে এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী রিপা বেগম (৩৭) অভিযোগ করেছেন, রিকশায় বাড়ি ফেরার পথে চালকই তার কাছ থেকে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়।


ভুক্তভোগী রিপা বেগম রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কিসমত কুখন্ডি গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী অন্য নারীকে বিয়ে করে আলাদা থাকেন। বৃদ্ধা মা, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আগেই। টাকার অভাবে ছেলেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে দিতে পারেননি। সংসারের হাল ধরতে তিনি দুই বছর সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে কাজ করে আট মাস আগে দেশে ফেরেন।


রিপা জানান, দেশে ফিরে দেখেন থাকার মতো স্থায়ী কোনো জায়গা নেই। ঋণ করে একটি জায়গা কিনেছিলেন। সৌদি আরব থেকে আনা টাকায় সেই ঋণ শোধ করেছেন। দেশে ফেরার পর গত পাঁচ মাস ধরে চাকরির জন্য চেষ্টা করেও কোনো কাজ পাননি। সংসারের দায়ভার ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে আবারও সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কষ্ট করে প্রায় দুই লাখ টাকা জোগাড় করেন বিদেশযাত্রার প্রস্তুতির জন্য।


বিদেশ যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে তিনি ঢাকায় গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। আঙুলের ছাপ দেওয়ার তারিখ আরও এক সপ্তাহ পর হওয়ায় তিনি রাজশাহীতে ফিরে আসেন। রাত পৌনে ৩টার দিকে বাস থেকে ভদ্রা এলাকায় নামার পর একটি রিকশায় করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।


রিপার ভাষ্য, রিকশায় ওঠার সময় চালক তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমারও মা-বোন আছে, ভয় নাই।’ কিন্তু রুয়েটসংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছতেই চালক রিকশা থামিয়ে তার গলায় ছুরি ধরে। পরে তাকে জিম্মি করে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কিছু নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এমনকি তাকে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।


এ সময় মতিহার থানা পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলের দিকে আসতে দেখে রিকশাচালক দ্রুত রিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রিপা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।


ঘটনার পর তিনি খালা ও খালুকে ফোনে ডেকে নেন। তাদের সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা হলে কিছুদূর যাওয়ার পর পুলিশ একটি ব্যাগ এনে দেয়। পুলিশ জানায়, ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগের ভেতরে একটি চাদর থাকলেও পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এতে বিদেশযাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে বলে জানান রিপা। তিনি বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।


নতুন করে জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে সোমবার আবেদন করেছেন রিপা বেগম। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় ও দৌড়ঝাঁপের কারণে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পারেননি। তবে শিগগিরই অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, টহল দল ব্যাগ উদ্ধার করে দিয়েছে বলে শুনেছেন। তবে ঘটনাস্থলটি সম্ভবত চন্দ্রিমা থানা এলাকার মধ্যে পড়েছে। তাদের থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা প্রয়োজন। ঘটনাস্থল তাদের থানা এলাকায় হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর