সারাদেশ

শিল্পপতির বাসা লক্ষ্য করে ভারি অস্ত্র দিয়ে গুলি, ‘এস-ড্রাইভ’ অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

শিল্পপতির বাসা লক্ষ্য করে ভারি অস্ত্র দিয়ে গুলি, ‘এস-ড্রাইভ’ অভিযান

ছবি : সংগৃহীত

এক শিল্পপতির বাড়িতে ভারি অস্ত্র দিয়ে মুহুর্মুহু গুলি করার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’।


রোববার রাত ১২টা থেকে নগরীকে ১০ ভাগে বিভক্ত করে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

অভিযানের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অভিযানে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় এলজি, ১২টি শটগানের কার্তুজ, ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি দুইটি ছোরা, একটি চাপাতি ও ৪৬৯ পিস ইয়াবা। এসব অস্ত্রের মধ্যে বেশির ভাগই বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ উদ্ধার করেছে।

গ্রেফতার ৬৫ জনের মধ্যে ছিনতাইকারী ৪১ জন, চাঁদাবাজ ৫ জন, মাদক ব্যবসায়ী ৫ জন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ১২ জন ও জুয়াড়ি রয়েছে ২ জন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে চালান পাঠানো হয়েছে বলে সিএমপি জনসংযোগ শাখা নিশ্চিত করেছেন।


অভিযানের তথ্য জানাতে রোববার গভীর রাতে সিএমপি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা মেট্রোপলিটন এলাকায় সিএমপির অফিসার ও ফোর্সেস মিলে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব। অপরাধী লুকিয়ে থাকা স্থানসহ অস্ত্র ও মাদকের সম্ভাব্য সব স্থানে আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব। আমরা একযোগে অভিযান পরিচালনা করব, যেটা আমাদের পুলিশের ভাষায় ‘এস ড্রাইভ’ বলে। একসঙ্গে একযোগে অভিযান চলবে। অপরাধীদের একটি আস্তানায় হানা দিলে যাতে অন্য অপরাধীরা সরে যেতে না পারে, সেজন্য একযোগে অভিযান চালানো হবে। সিএমপির ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব কর্মকর্তা এ অভিযানে অংশ নেবেন।

শিল্পপতির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় নগরবাসীর মনে কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এই আশঙ্কা দূর করার জন্য আমরা এ অভিযান পরিচালনা করছি।


ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন বলে উল্লেখ করে পুলিশের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করেছি। তাদের আস্তানায় গোয়েন্দা অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তারা চট্টগ্রাম শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। সেখানেও আমাদের অভিযান চলছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে, তারা বাইরে থেকে অস্ত্র নিয়ে আসেনি। কারণ শহরের প্রতিটি প্রবেশমুখে আমাদের চেকপোস্ট আছে। এই ঝুঁকি তারা নেয়নি। অস্ত্র নিয়ে তারা প্রবেশ করেনি। অস্ত্র চট্টগ্রাম শহরের কোথাও না কোথাও লুকিয়ে রেখেছে। এ ধরনের অনেক স্পট আমরা শনাক্ত করেছি। সবগুলোতে আমরা একসঙ্গে অভিযান পরিচালনা করব।

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকে এই নিশ্চয়তা দিতে চাই যে পুলিশ সবসময় আপনাদের পাশে ছিল, পাশে আছে। নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার কোনো কারণ নেই। আমরা আমাদের সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পূর্বের অন্যান্য ঘটনায় যেভাবে অপরাধীরা ধরা পড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনার অপরাধীরাও ধরা পড়বে।


সম্পর্কিত খবর