সারাদেশ

সুন্দরবনের গহীনে মাটি খুঁড়ে অস্ত্র-গুলি লুকিয়ে রাখে দস্যুরা

স্টাফ রিপোর্টার

শেয়ারঃ

সুন্দরবনের গহীনে মাটি খুঁড়ে অস্ত্র-গুলি লুকিয়ে রাখে দস্যুরা

ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনের গহীনে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো দস্যুদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গুলি। বনের জেলে-বাওয়ালিদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ, জিম্মি ও মুক্তিপণ আদায় করে ব্যবহৃত অস্ত্র বনে লুকিয়ে রেখে লোকালয়ে ফিরে যায় দস্যু বাহিনীর সদস্যরা। ফের আবার একই অস্ত্র তাক করা হয় (ব্যবহৃত) নিরস্ত্র পেশাজীবীদের বুকে ও মাথায়।


দিনের পর দিন এভাবে চাঁদা ও মুক্তিপণ আদায় করে সুন্দরবনের একাধিক সশস্ত্র দস্যু বাহিনী। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযানে দস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর এক সদস্য আটক হওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বনের ঝোপ-ঝাড়ের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় দলের ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কোস্টগার্ড সদস্যদের নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে কোস্টগার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।


তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে (মঙ্গলবার) ভোর ৪টায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনী সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা নারায়ণপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আফজাল সরদারকে (৩২) আটক করা হয়। তার দেওয়া প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এদিন বেলা ১১টায় পূর্ব সুন্দরবনের পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১টি শটগান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।

আটক দস্যু বাহিনীর সদস্য আফজাল সরদার খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন যাবত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তাকে মোংলা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

কোস্টগার্ড কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু হলে ওই ডাকাত সদস্য আতঙ্কিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসমূহ উক্ত এলাকায় পুঁতে রেখে কয়রার নারায়ণপুর এলাকায় আত্মগোপন করে। বনে দস্যু তৎপরতা দমনে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



সম্পর্কিত খবর